আইন সবার উপরে! তেহেলকার প্রাক্তন প্রধান তরুণ তেজপালকে দু’সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

২০১৩ সালের বহুল আলোচিত ধর্ষণ মামলায় তেহেলকা পত্রিকার প্রাক্তন প্রধান সম্পাদক তরুণ তেজপালকে বড় ধাক্কা দিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে হবে এবং আদালতে আত্মসমর্পণের শংসাপত্র জমা দিতে হবে। আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, এই শংসাপত্র জমা পড়ার পরেই তাঁর করা আপিলের গুণাগুণ নিয়ে বিচার বিবেচনা করা হবে।

কপিল সিবালের যুক্তি খারিজ
বিচারপতি অলোক আরাধে এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। শুনানির সময় তেজপালের আইনজীবী তথা প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল যুক্তি দিয়েছিলেন যে, আপিলের শুনানির জন্য মক্কেলকে বাধ্যতামূলকভাবে আত্মসমর্পণ করতে হবে না। এর আগে গত ৬ আগস্ট বোম্বে হাইকোর্ট তাঁকে আত্মসমর্পণের জন্য চার সপ্তাহ সময় দিয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্ট সিবালের সেই যুক্তি খারিজ করে দিয়ে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির আগেই আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে।

অন্যদিকে, গোয়া সরকারের পক্ষে উপস্থিত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জোরালো সওয়াল করে জানান, তেজপাল আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত তাঁর আপিল শুনানির যোগ্য নয়। উল্লেখ্য, গোয়া সরকার তেজপালের সাজা বাড়িয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে।

পুরোনো মামলার পটভূমি
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের নভেম্বরে গোয়ার একটি বিলাসবহুল হোটেলের লিফটের ভেতরে এক কনিষ্ঠ সহকর্মীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে তরুণ তেজপালের বিরুদ্ধে। ২০২১ সালে গোয়ার দায়রা আদালত তাঁকে এই মামলা থেকে খালাস দিলেও, পরে বোম্বে হাইকোর্টের গোয়া বেঞ্চ সেই রায় খারিজ করে দেয়। গত ৬ আগস্ট হাইকোর্ট তেজপালকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে।

হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছিলেন তেজপাল, যেখানে তিনি আত্মসমর্পণ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু শীর্ষ আদালতের আজকের নির্দেশের ফলে তাঁকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আত্মসমর্পণ করতে হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *