কুড়িয়ে নেওয়ার হিড়িক! কানপুরের ডাস্টবিন থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ চকলেট ও টফি লুটের ভিডিও ভাইরাল

উত্তরপ্রদেশের কানপুর থেকে একটি অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও অদ্ভুত দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। পঙ্কি এলাকার একটি আবর্জনার স্তূপ থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ চকলেট এবং টফি কুড়িয়ে নেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামনে আসতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা।ঠিক কী দেখা গেছে ভিডিওতে?ভাইরাল হওয়া ক্লিপটিতে দেখা যাচ্ছে, পুরুষ ও মহিলারা একটি ডাস্টবিনের স্তূপ থেকে দেদার চকলেট এবং টফি খুঁড়ে বের করছেন। কেউ খালি হাতে পকেটে ভরছেন, আবার কেউ কেউ ব্যাগ, বস্তা এমনকি মোটরসাইকেলে চেপে এসেও বড় বড় কার্টন ও কন্টেইনারে সেই সমস্ত মিষ্টি সংগ্রহ করছেন। স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, একটি স্থানীয় কারখানা থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ বা বিক্রির অযোগ্য হয়ে যাওয়া এই চকলেটের স্টকটি আবর্জনায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের লোকজন সেখানে ছুটে আসেন। সামাজিক মাধ্যম এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ @Delhiite নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি শেয়ার করার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পোস্টটিতে লেখা হয়েছে, “আবর্জনা থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ চকলেট কুড়ানোর দৃশ্য। কানপুরের পঙ্কি এলাকায় এক অদ্ভুত কাণ্ড দেখা গেল, যেখানে মানুষ ডাস্টবিন থেকে ফেলে দেওয়া টফি-চকলেট সংগ্রহ করছে। সাধারণ জ্ঞান যেন সেদিন ছুটি নিয়েছিল।” নেটদুনিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও বিতর্কএই ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ইন্টারনেটে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। একদল নেটিজেন স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা মাথায় না রেখে এভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার কুড়িয়ে নেওয়ার তীব্র সমালোচনা করেছেন। অনেকের আশঙ্কা, এই ধরনের খাবার খাওয়ার ফলে বড় ধরনের শারীরিক ক্ষতি বা অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, অন্য একটি অংশের মতে এটি স্রেফ সচেতনতার অভাব নয়, বরং দেশের গভীর দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক সংকটের বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তোলে। জনৈক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, মুদ্রাস্ফীতি যেভাবে বাড়ছে, তাতে মনে হচ্ছে ডাস্টবিনগুলোও এখন ‘বাজেট শপিংয়ের জায়গা’ হয়ে উঠেছে। আবার কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, কোনো কারখানারই এইভাবে খোলা জায়গায় মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য ফেলা উচিত নয়, এর জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তা ধ্বংস করা উচিত ছিল। সব মিলিয়ে, এই ঘটনা যেমন খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে, তেমনই জনমানসের সচেতনতা নিয়েও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *