মদের দোকানের আড়ালে ‘মধুচক্র’! ঝাঁটা হাতে রাস্তায় মহিলারা, তালা ঝুলালেন নবদ্বীপে

মদের দোকানের আড়ালে দেদার চলছে দেহব্যবসা। দীর্ঘদিনের এই অভিযোগে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটল নদিয়ার নবদ্বীপের গৌরাঙ্গ সেতু এলাকায়। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় মহিলারা ঝাঁটা হাতে রাস্তায় নেমে মদের দোকানে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখালেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
কী ঘটেছিল?
স্থানীয়দের অভিযোগ, গৌরাঙ্গ সেতুর কাছে অবস্থিত ওই মদের দোকানের পিছনের ঘরগুলোতে নিয়মিত মদের আসর বসত। সেখানেই অল্পবয়সী যুবতী এবং অভিযোগ অনুযায়ী নাবালিকাদের নিয়ে চলত অসামাজিক কার্যকলাপ। প্রতিদিন এলাকার বহু যুবক সেখানে যাতায়াত করত, যার প্রভাব পড়ছে স্থানীয় পরিবারগুলোতে। বিক্ষোভকারী লক্ষ্মী সরকারের অভিযোগ, “মদ-গাঁজার নেশায় বুঁদ হয়ে এলাকার যুবকরা বাড়ি ফিরে স্ত্রীদের ওপর অমানুষিক অত্যাচার করছে। এই মধুচক্রের কারণে আমাদের ছেলেমেয়েরা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।”
প্রতিবাদে মারধর:
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই এই অসামাজিক কাজের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন তাঁরা। কিন্তু প্রতিবাদ করলেই উলটে হুমকি ও মারধরের শিকার হতে হতো। গত বুধবার রাতে এক স্থানীয় ব্যক্তিকে মারধর করার অভিযোগ ওঠে দোকানের কর্মীদের বিরুদ্ধে। এরপরই ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় এলাকাবাসীর। বৃহস্পতিবার সকালে শতাধিক মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন।
অভিযোগের পাহাড়:
বিক্ষোভকারী মধুসূদন সেনের দাবি, এই মদের দোকানটি আগে অন্যত্র ছিল, সেখানেও একই অভিযোগে স্থানীয়রা সেটি বন্ধ করে দিয়েছিল। পরবর্তীতে সরকারি জমিতে অবৈধভাবে এটি ফের চালু করা হয়। প্রথমে কেবল মদ বিক্রি চললেও, ধীরে ধীরে সেখানে বার তৈরি করে অসামাজিক কার্যকলাপ শুরু হয়। এমনকি ১৩-১৪ বছরের নাবালিকাদেরও সেখানে যাতায়াত করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ।
পুলিশি তৎপরতা:
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নবদ্বীপ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশি হস্তক্ষেপে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশের ডিএসপি শিল্পী পাল জানিয়েছেন, “বিক্ষোভকারীদের সাথে কথা বলা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বর্তমানে এলাকাটি পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে। মদের দোকানের মালিকপক্ষ বা অভিযুক্তদের তরফে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।