আইপিএলের মাঝপথে সিএসকে ও আরসিবিতে তোলপাড়! চোটের কোপে কোন কোন নতুন তারকা এলেন দলে?

আইপিএলের ১৯তম আসর এখন একেবারে শেষ লগ্নে। তবে টুর্নামেন্ট যত গড়াচ্ছে, দলগুলোর অন্দরে চোট-আঘাতের সমস্যা ততই বাড়ছে। আর এই চোটের কারণেই খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে দলগুলো দলে আনছে বড় বড় পরিবর্তন। টুর্নামেন্টের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একদিকে যেমন অনেক ক্রিকেটারের স্বপ্নভঙ্গ হচ্ছে, ঠিক তেমনই অন্য ক্রিকেটারদের সামনে খুলে যাচ্ছে আইপিএলের বন্ধ দরজা।
শুক্রবার, ১৫ই মে আইপিএল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করে দুই হেভিওয়েট দলে ক্রিকেটার পরিবর্তনের খবর জানানো হয়েছে। এই মৌসুমে চোটের আঘাতে সবচেয়ে বেশি জর্জরিত মহেন্দ্র সিং ধোনির চেন্নাই সুপার কিংস (সিএসকে)। এবার তারা আরও একবার বাধ্য হয়ে দলে বদল এনেছে।
সিএসকে শিবির থেকে চোটের কারণে পুরো মৌসুমের জন্য ছিটকে গেছেন বাঁ-হাতি ফাস্ট বোলার খলিল আহমেদ। চলতি মৌসুমে চেন্নাইয়ের হয়ে মাত্র পাঁচটি ম্যাচ খেলার পরই চোটের কবলে পড়েন তিনি। খলিলের এই আকস্মিক বিদায়ে তাঁর বিকল্প হিসেবে দিল্লির ফাস্ট বোলার কুলদীপ যাদবকে দলে অন্তর্ভুক্ত করেছে চেন্নাই। বেস প্রাইস ৩০ লক্ষ রুপির বিনিময়ে কুলদীপকে নিজেদের শিবিরে টেনেছে সিএসকে। এর আগে ২০২১ এবং ২০২৩ সালে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে আইপিএলে মাত্র তিনটি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে এই পেসারের, যেখানে তিনি ঝুলিতে পুরেছিলেন দুটি উইকেট।
অন্যদিকে, গতবারের চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরও (আরসিবি) লিগ পর্বের শেষ মুহূর্তে এসে খেলোয়াড় পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। শ্রীলঙ্কার ডানহাতি ফাস্ট বোলার নুয়ান থুশারা ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারায় এবারের মৌসুমে আরসিবি শিবিরে যোগ দিতে পারেননি। ইতিমধ্যে ১২টি লিগ ম্যাচ খেলে ফেলা বেঙ্গালুরু থুশারার বিকল্প হিসেবে দলে বড় চমক এনেছে।
সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আরসিবি তাদের শিবিরে যুক্ত করেছে ৩৮ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ইংলিশ ফাস্ট বোলার রিচার্ড গ্লিসনকে। ১ কোটি ৬০ লক্ষ রুপির মোটা অঙ্কের চুক্তিতে বেঙ্গালুরুতে যোগ দিয়েছেন এই ব্রিটিশ গতিদানব। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ও বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার বিশাল অভিজ্ঞতা রয়েছে গ্লিসনের। এর আগে আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংস এবং মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে তিনটি ম্যাচ খেলে দুটি উইকেট শিকার করেছিলেন তিনি।
প্লে-অফের লড়াই যখন তুঙ্গে, তখন এই দুই নতুন বোলারের অন্তর্ভুক্তি সিএসকে এবং আরসিবির ভাগ্য কতটা বদলে দিতে পারে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা।