জিলাপি বিক্রেতা থেকে বিধায়ক, বিহারে ‘শেঠজি’র সাম্রাজ্যে ধস! রাতারাতি প্রার্থী করেও হারল জেডিইউ

বিহারের রাজনীতিতে ফের একবার বড়সড় পালাবদল! আরা-বক্সার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বিধান পরিষদ আসনের উপনির্বাচনে শাসকদল জেডিইউ-এর থেকে আসনটি ছিনিয়ে নিল আরজেডি। এই পরাজয় বিহারের এনডিএ শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এই আসনটি ছিল দাপুটে নেতা তথা বিধায়ক রাধাচরণ শাহ ওরফে ‘শেঠজি’র পারিবারিক দুর্গ।

জিলাপি বিক্রেতা থেকে রাজনীতির শীর্ষে: এক অবিশ্বাস্য সফর
যাঁকে নিয়ে বিহারের রাজনীতিতে চর্চার শেষ নেই, তিনি হলেন রাধাচরণ শাহ। এক সময় জিলাপির দোকান চালাতেন তিনি, সেখান থেকে পরিশ্রমের জোরে হয়ে ওঠেন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী এমএলসি। পরবর্তীকালে তিনি বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ায় এই আসনটি শূন্য হয়। উপনির্বাচনে জেডিইউ প্রার্থী করেছিল তাঁরই ছেলে কানহাইয়া প্রসাদকে। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না।

কেন ধরাশায়ী হলো জেডিইউ?
বিধানসভা নির্বাচনে দুর্দান্ত ফলের পরেও এই আসনে পরাজয়ের নেপথ্যে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য:

‘বহিরাগত’ বিতর্ক: স্থানীয়দের অভিযোগ, কানহাইয়া প্রসাদ নির্বাচনের আগে দলের সদস্যই ছিলেন না। তাঁকে প্রার্থী ঘোষণা করার পর রাতারাতি দলে জায়গা দেওয়া হয়, যা পুরনো কর্মী ও নেতাদের ক্ষুব্ধ করেছে।

বিদ্রোহী কাঁটা: জেডিইউ-এর ঘরোয়া কোন্দলই আরজেডি-র জয়ের রাস্তা পরিষ্কার করেছে। দলের অন্যতম দাবিদার মনোজ উপাধ্যায় টিকিট না পেয়ে নির্দল হিসেবে লড়াই করেন। তিনি ৬৩৬ ভোট পান, যা জেডিইউ প্রার্থীর জয়ের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দেয়।

রাজপুত ভোটারদের উদাসীনতা: এলাকায় রাজপুত ভোটারদের মধ্যে এনডিএ নেতৃত্বের প্রতি তীব্র ক্ষোভ ছিল। বিশেষ করে প্রভাবশালী নেতা রাজকুমার সিংয়ের হারের পর উচ্চবর্ণের ভোটারদের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, উপনির্বাচনে তার ফল হাতেনাতে পাওয়া গেছে।

মহাজোটের মাইক্রো-প্ল্যানিং
অন্যদিকে, আরজেডি প্রার্থী সোনু কুমার রায়ের জয় ছিল পরিকল্পিত। বক্সারের আরজেডি সাংসদ সুধাকর সিং এবং সিপিআই(এমএল) নেতা অজিত কুশওয়াহা তৃণমূল স্তরে জোটের কর্মীদের একজোট করেছিলেন। বৈশ্য এবং রাজপুত ভোটারদের একাংশ মহাজোটের দিকে ঝোঁকার ফলেই সোনু রায় ৩৫৯ ভোটের ব্যবধানে বাজিমাত করেন।

এই ফলাফল বিহারের আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণে মহাজোটকে নতুন অক্সিজেন দিল। এনডিএ-র এই পরাজয় বুঝিয়ে দিল, কেবল পারিবারিক পরিচিতি নয়, স্থানীয় কর্মীদের ক্ষোভ সামলানোই এখন নীতিশ-বিজেপি জোটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।