টলিউডে চরম সংঘাত! ইম্পা-র অন্দরে ‘বিদ্রোহের’ আগুনে ঘি ঢাললেন গৌতম ঘোষ? পিয়াকে ছাড়াই বড় সিদ্ধান্ত!

বিনোদন জগতের অন্যতম শীর্ষ সংগঠন ইম্পা (EIMPA)-র অন্দরের অশান্তি কিছুতেই থামার লক্ষণ দেখাচ্ছে না। বরং যত সময় এগোচ্ছে, টলিপাড়ার এই ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের ভেতরের পরিস্থিতি তত জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠছে। বর্তমান সভানেত্রী পিয়া সেনগুপ্তর পদত্যাগের দাবিতে এখনও অনড় টলিপাড়ার প্রযোজক ও পরিবেশকদের একাংশ। আর এই হাইভোল্টেজ ডামাডোলের মাঝেই বৃহস্পতিবার এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড় দেখল ইম্পা।
পিয়া সেনগুপ্ত বিরোধী শিবিরের ডাকা এদিনের এই হাইপ্রোফাইল বৈঠকে আচমকাই হাজির হন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত খ্যাতনামা চলচ্চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষ। আন্দোলনের এতদিন পর হঠাৎই তাঁর মতো একজন বর্ষীয়ান ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি টলিপাড়ায় নতুন করে জল্পনা বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে উল্টোদিকে, যাঁর পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলন, সেই পিয়া সেনগুপ্ত এবং তাঁর কমিটির অন্য কোনও হেভিওয়েট সদস্যকে এদিন ইম্পা কার্যালয়ে দেখা যায়নি। ফলে, সভানেত্রীকে ছাড়াই সংগঠনের চারটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সদস্যদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠক সারেন বিরোধী পক্ষের প্রযোজকরা। বৈঠক শেষে তাঁরা সাফ জানিয়ে দেন, পিয়া সেনগুপ্তর পদত্যাগের দাবি থেকে তাঁরা এক চুলও নড়ছেন না।
এদিকে, এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে টলিপাড়ার অন্দরে একটি বড়সড় প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে। প্রযোজকদের এই বড় মাপের প্রতিবাদ এবং লাগাতার বিক্ষোভে কেন দেখা মিলছে না ইন্ডাস্ট্রি কাঁপানো অন্য কোনও তথাকথিত খ্যাতনামা প্রযোজকের? পিয়া বিরোধীদের এই কর্মসূচিতে কেন অন্য প্রথম সারির প্রযোজকরা সশরীরে হাজির থাকছেন না, তা নিয়ে প্রতিদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে আন্দোলনকারীদের।
এই প্রসঙ্গে অন্যতম প্রধান আন্দোলনকারী তথা পরিবেশক শতদীপ সাহা অবশ্য বারবারই ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমাদের ইন্ডাস্ট্রির সকলের সঙ্গেই প্রতিনিয়ত কথা হচ্ছে। সবাই আমাদের এই লড়াইয়ের পাশে আছেন। সোশাল মিডিয়া খুললেই তার প্রমাণ পেয়ে যাবেন আপনারা।” তবে শতদীপ সাহা মুখে পাশে থাকার কথা বললেও, বাস্তবে এখনও পর্যন্ত আন্দোলনের প্রথম সারিতে কোনও বড় প্রযোজককে সশরীরে হাজির থাকতে না দেখা যাওয়ায়, ইম্পা-র ভবিষ্যৎ এবং টলিপাড়ার এই ক্ষমতার লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।