গ্ল্যামারের আড়ালে লুকিয়ে মৃত্যুফাঁদ? রূপোলি পর্দার সেটে ফের ভয়াবহ দুর্ঘটনা, বড়সড় প্রশ্নের মুখে কলাকুশলীদের নিরাপত্তা!

আরও একবার লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের চেনা চকমকে আলোয় অন্ধকার নেমে এল। এবার শ্যুটিং সেটে কাজ করার সময় ঘটল এক চরম মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হলো এক প্রোডাকশন কর্মীর। রূপোলি পর্দার গ্ল্যামার আর জাঁকজমকের আড়ালে যে টেকনিশিয়ান এবং সাধারণ কর্মীরা দিনরাত হাড়ভাঙা খাটুনি খাটেন, তাঁদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা ঠুনকো ও অবহেলিত, এই ঘটনা আরও একবার তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

স্টুডিও পাড়া সূত্রে খবর, প্রতিদিনের মতোই এদিনও সেটে পুরোদমে কাজ চলছিল। শ্যুটিংয়ের চূড়ান্ত ব্যস্ততার মাঝেই আচমকা এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন ওই কর্মী। সহ-কর্মীরা তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই খবর সেটে পৌঁছাতেই কান্নার রোল ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় সমস্ত শ্যুটিংয়ের কাজ।

তবে বিনোদন জগতের সেটে এই ধরণের মারাত্মক দুর্ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগেও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্টুডিওতে ক্রেন ভেঙে পড়া, শর্ট সার্কিট বা স্টান্ট করতে গিয়ে কর্মী ও অভিনেতাদের আহত বা নিহত হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। আর প্রতিবারই দুর্ঘটনার পর কয়েকদিন হইচই হলেও, কিছুদিন যেতে না যেতেই পরিস্থিতি আবার আগের মতোই থিতিয়ে যায়।

এদিনের এই মর্মান্তিক ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই টলিপাড়া থেকে বলিপাড়ার অন্দরে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দানা বাঁধছে। প্রশ্ন উঠছে, কোটি কোটি টাকার বাজেটে সিনেমা বা সিরিজ তৈরি হলেও, কেন সেটে থাকা সাধারণ কর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত লাইফ ইন্সুরেন্স বা আপদকালীন সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকে না? শ্যুটিংয়ের সময় যথাযথ সুরক্ষাবিধি (Safety Protocols) মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও তদন্তের দাবি তুলেছেন বিভিন্ন কর্মী সংগঠন। এই ঘটনার পেছনে প্রোডাকশন হাউসের কোনও বড়সড় গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।