দল থেকে বহিষ্কারের ৪৮ ঘণ্টায় শ্রীঘরে প্রশান্ত! বিজেপি নেতার গ্রেফতারে চাঞ্চল্য সল্টলেকে

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। এই আবহে এক নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপের সাক্ষী থাকল সল্টলেক। ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার (BJYM) যাদবপুর ডিস্ট্রিক্ট ইনচার্জ প্রশান্ত দেবনাথকে দল থেকে বহিষ্কারের ঠিক ৪৮ ঘণ্টার মাথায় গ্রেফতার করল দক্ষিণ বিধাননগর থানার পুলিশ। তৃণমূলকর্মীদের মারধর ও অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে জালে তোলা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত
গত ৪ মে ফল প্রকাশের ঠিক পরেই সল্টলেকের সুকান্তনগর ও বাসন্তী দেবী কলোনি এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ ওঠে, প্রশান্ত দেবনাথের নেতৃত্বে একদল যুবক এলাকায় তাণ্ডব চালায় এবং একটি পার্টি অফিস দখল করে। গত ১০ মে দক্ষিণ বিধাননগর থানায় বিশ্বজিৎ দাস নামে এক তৃণমূলকর্মী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন যে, প্রশান্ত ও তাঁর দলবল তাঁকে ব্যাপক মারধর করেছে।
বিজেপির কড়া পদক্ষেপ ও বহিষ্কার
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই বিজেপি নেতৃত্ব বারবার দাবি করে আসছিল যে, তাঁরা কোনওরকম অশান্তি বরদাস্ত করবেন না। সেই সুরেই গত ১২ মে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সুপারিশে এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নির্দেশে দলবিরোধী কাজের দায়ে প্রশান্ত দেবনাথকে বহিষ্কার করা হয়। দল থেকে ছেঁটে ফেলার দু’দিনের মধ্যেই পুলিশের এই অ্যাকশন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
প্রশাসনের বার্তা স্পষ্ট
রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বহু জায়গায় বিজেপি কর্মীরা ঘরছাড়াদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন এবং বেদখল হওয়া দলীয় কার্যালয় পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন। তবে সেই কাজ করতে গিয়ে যাতে কোনওভাবেই আইন হাতে তুলে না নেওয়া হয়, প্রশান্তের এই গ্রেফতারি যেন তারই স্পষ্ট বার্তা। শমীক ভট্টাচার্য আগেই হুঙ্কার দিয়েছিলেন যে, বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনও অন্যায়ের অভিযোগ উঠলে দল কড়া ব্যবস্থা নেবে। বহিষ্কৃত নেতাকে শ্রীঘরে পাঠিয়ে কার্যত সেই কথাতেই সিলমোহর দিল গেরুয়া শিবির।
ধৃত প্রশান্ত দেবনাথকে আজ শুক্রবার বিধাননগর আদালতে পেশ করা হবে। অশান্তি মোকাবিলায় পুলিশ ও প্রশাসন যে কোনও রং বিচার করবে না, এই ঘটনা তারই বড় প্রমাণ।