“পুরস্কৃত হলাম!” মমতার সিদ্ধান্তে কি এবার দল ছাড়ছেন কাকলি? বিস্ফোরক পোস্টে তোলপাড় বাংলা

নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে বইছে ঝোড়ো হাওয়া। একদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও আই-প্যাকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন দলের একাংশ, অন্যদিকে একের পর এক বর্ষীয়ান নেতার ‘বেসুরো’ মন্তব্য অস্বস্তি বাড়াচ্ছে ঘাসফুল শিবিরের। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল বারাসতের হেভিওয়েট সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারের নাম। লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতক (Chief Whip) পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় কার্যত বোমা ফাটালেন তিনি।

৯ মাসেই ‘পদচ্যুতি’, ফের দায়িত্বে কল্যাণ
ঘটনার সূত্রপাত লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলের রদবদল নিয়ে। গত বছর অগস্টে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আচমকাই মুখ্য সচেতক পদে ইস্তফা দিলে সেই দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছিল কাকলি ঘোষদস্তিদারের হাতে। কিন্তু মাত্র ৯ মাসের মাথাতেই পুরনো সমীকরণ ফিরিয়ে আনলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কাকলিকে সরিয়ে ফের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেই ওই গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আর দলের এই সিদ্ধান্তেই চরম ক্ষুব্ধ চার দশকের এই নেত্রী।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক কাকলি
পদ হারানোর পরেই নিজের ফেসবুক দেওয়ালে আক্ষেপ ও শ্লেষ মেশানো একটি পোস্ট করেন কাকলি। তিনি লেখেন, “৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪ থেকে পথচলা শুরু। ৪ দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, ‘পুরস্কৃত হলাম’ শব্দটির মাধ্যমে আসলে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন তিনি। দীর্ঘ চল্লিশ বছর দলে থেকেও এই ধরণের পদচ্যুতি যে তিনি মেনে নিতে পারছেন না, তা তাঁর শব্দচয়ন থেকেই স্পষ্ট।

নেপথ্যে কি ছেলের ‘বিদ্রোহী’ পোস্ট?
কাকলির এই পদ হারানোর নেপথ্যে তাঁর ছেলে বৈদ্যনাথ ঘোষদস্তিদারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড বড় ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বেশ কিছুদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূল নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করছেন বৈদ্যনাথ। এমনকি সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের প্রশংসা করতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে।

একইসঙ্গে বৈদ্যনাথ একটি পোস্টে প্রশ্ন তুলেছিলেন, “আমার মাকে প্রশ্ন করার কোনও প্রয়োজন নেই। অনুগ্রহ করে প্রশ্ন করুন সব্যসাচী দত্ত কোথায়?” বিধাননগরের রাজনীতিতে সব্যসাচী দত্তর সঙ্গে কাকলি ঘোষদস্তিদারের সংঘাত কারও অজানা নয়। রাজনৈতিক কারবারিদের মতে, ছেলের এই লাগাতার দলবিরোধী মন্তব্যের জেরেই হয়তো মাসুল গুনতে হল মা-কে।

অনিশ্চয়তার মুখে বারাসতের সাংসদ?
পালাবদলের পর থেকেই দলের অন্দরে পুরনো ও নতুনের দ্বন্দ্ব প্রকট হচ্ছে। একদিকে যখন ‘বিদ্রোহী’ নেতাদের ভিড় বাড়ছে, তখন কাকলির এই অভিমানী পোস্ট কি অন্য কোনও বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত? যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি, তবে বারাসতের সাংসদের এই বিদ্রোহ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।