১০৮ টাকা পার! হু হু করে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম, হাহাকারের মাঝেই ‘কষ্ট’ করার পরামর্শ দিলীপ ঘোষের

সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে শুক্রবার সকালেই বড়সড় ধাক্কা দিল জ্বালানি তেলের দাম। ইঙ্গিত মিলেছিল আগেই, আর সপ্তাহান্তের শুরুতেই লিটার প্রতি প্রায় ৩ টাকা করে দাম বাড়ল পেট্রোল ও ডিজেলের। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং যুদ্ধের আবহে জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি মধ্যবিত্তের পকেটে যে বড় টান দেবে, তা বলাই বাহুল্য।
শহর ভিত্তিক তেলের নতুন দাম:
শুক্রবার সকাল থেকেই কার্যকর হয়েছে নতুন এই হার। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক দেশের মহানগরগুলিতে কত হল পেট্রোলের দাম:
কলকাতা: লিটার প্রতি পেট্রোলের দাম ১০৮ টাকা ৬৬ পয়সা।
মুম্বই: লিটার প্রতি ১০৬ টাকা ৬৮ পয়সা।
চেন্নাই: লিটার প্রতি ১০৩ টাকা ৬৭ পয়সা।
দিল্লি: দিল্লিতেও পেট্রোলের দাম ১০০ টাকার গণ্ডি ছুঁইছুঁই।
সরকারের যুক্তি ও দিলীপ ঘোষের মন্তব্য:
জ্বালানি তেলের এই ঊর্ধ্বগতি নিয়ে বিরোধীরা যখন সরব হতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যাখ্যা। রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের দাবি, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কারণেই সরকার দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।
দিলীপ ঘোষ বলেন, “বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ চলছে। যে সব কারণে দাম বাড়ছে, তা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। সরকার অনেকদিন বাদে দাম বাড়াতে বাধ্য হল। বিশ্বজুড়ে যে সংকট চলছে, তার থেকে আমরা আলাদা থাকতে পারি না।” সাধারণ মানুষের উদ্দেশে তাঁর সরাসরি বার্তা, “এখন একটু কষ্ট করলে পরে কষ্ট কম হবে।”
মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে কী কারণ?
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর জ্বালানি ও তেলের সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের যোগান ব্যাহত হওয়া এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরেই এই মূল্যবৃদ্ধি অনিবার্য হয়ে পড়েছিল।
তবে কারণ যাই হোক, কলকাতায় লিটার প্রতি তেলের দাম ১০৮ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে যাওয়ায় পরিবহন খরচ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে জনমানসে।