এয়ারটেলের মুনাফায় বিশাল ধস! হঠাৎ কেন হাজার হাজার কোটি টাকা কমল আম্বানি-প্রতিদ্বন্দ্বীর লাভ?

দেশের টেলিকম দুনিয়ার অন্যতম শীর্ষ সংস্থা ভারতী এয়ারটেল তাদের ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকের আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করেছে। এক নজরে রিপোর্টটি দেখলে মুনাফায় বড়সড় পতন চোখে পড়লেও, এর নেপথ্যে থাকা আসল কারণটি বিশ্লেষণ করলে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠছে। সংস্থাটির সমন্বিত নীট মুনাফা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

মুনাফা হ্রাসের আসল রহস্য কী?

এয়ারটেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ ত্রৈমাসিকে তাদের নীট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৭,৩২৫ কোটি টাকায়। যেখানে গত বছর এই একই সময়ে লাভের পরিমাণ ছিল ১১,০২১ কোটি টাকা। প্রথম দেখায় এই পতন বিশাল মনে হলেও, সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে যে এর প্রধান কারণ হলো গত বছরের ‘ট্যাক্স বেনিফিট’ বা কর সুবিধা।

গত বছরের একই ত্রৈমাসিকে এয়ারটেল ২,৮৯২ কোটি টাকার নীট কর সুবিধা পেয়েছিল, যার ফলে সেবার মুনাফা কৃত্রিমভাবে অনেকটাই বেশি দেখাচ্ছিল। সেই তুলনায় এবার কোনো বিশেষ কর সুবিধা না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই লাভের অংক কম দেখাচ্ছে।

রাজস্বে অভাবনীয় সাফল্য

মুনাফায় টান পড়লেও এয়ারটেলের ব্যবসার পরিধি কিন্তু উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের মার্চ ত্রৈমাসিকে যেখানে রাজস্ব ছিল ৪৭,৮৭৬ কোটি টাকা, এবার তা ১৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫,৩৮৩ কোটি টাকায়। কর-পূর্ব মুনাফাও (EBITDA) ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৩,২০৫ কোটি টাকার রেকর্ড স্পর্শ করেছে।

কেন বাড়ছে কোম্পানির আয়?

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এয়ারটেলের এই রাজস্ব বৃদ্ধির পেছনে তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে:

  • শক্তিশালী গ্রাহক সংখ্যা: রেকর্ড হারে নতুন গ্রাহক যুক্ত করেছে সংস্থাটি।

  • প্রিমিয়াম প্ল্যান: বিপুল সংখ্যক গ্রাহক সাধারণ প্ল্যান ছেড়ে দামী বা প্রিমিয়াম প্যাক ব্যবহার করতে শুরু করেছেন।

  • পরিচালনগত দক্ষতা: কোম্পানির অভ্যন্তরীণ খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং দক্ষ পরিচালন ব্যবস্থা তাদের আয়কে আরও মজবুত করেছে।

সামগ্রিকভাবে, করের মারপ্যাঁচে মুনাফা কম দেখালেও, এয়ারটেল যে টেলিকম বাজারে তাদের আধিপত্য বজায় রাখছে এবং ব্যবসার কলেবর বাড়াচ্ছে— তা এই রিপোর্টেই স্পষ্ট। আগামী দিনে সংস্থাটি গ্রাহকদের জন্য নতুন কোনো ডেটা প্ল্যান বা চমক আনে কি না, এখন সেদিকেই নজর বিনিয়োগকারীদের।