বরাহনগরে খতম দাদাগিরি! মাঝরাতে পুলিশের বড় অ্যাকশন, কোন অপরাধে গারদে শাসকদলের দাপুটে কাউন্সিলার?

বরাহনগর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা দাদাগিরি ও সালিশি সভার দাপটে শেষমেশ ইতি টানল পুলিশ। এলাকায় তোলাবাজি, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো এবং বেআইনি সালিশি সভা বসিয়ে বিচার করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হলো বরাহনগরের দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলারকে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে ভূরি ভূরি অভিযোগ জমা পড়লেও, এবার আর শেষরক্ষা হলো না। শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে ধরা পড়লেন এই শাসকদলের নেতা।
অভিযোগের পাহাড়: স্থানীয় সূত্রে খবর, বরাহনগর পুরসভা এলাকায় ওই কাউন্সিলারের অঙ্গুলিহেলন ছাড়া গাছের পাতাও নড়ত না। বিশেষ করে প্রোমোটিং ও নির্মাণকাজে তোলাবাজির অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিনের। এছাড়াও, ছোটখাটো যে কোনো বিবাদ মেটানোর নামে তিনি ‘সালিশি সভা’ বসিয়ে নিজের আইন চালাতেন বলে অভিযোগ। সেখানে সাধারণ মানুষের ওপর মানসিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি মোটা অঙ্কের জরিমানা আদায়ের কারবার চলত বলেও পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।
পুলিশি তৎপরতা: বেশ কিছুদিন ধরেই গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নজরদারি চালাচ্ছিল পুলিশ। সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় এক ব্যক্তির থেকে বড় অঙ্কের টাকা দাবি এবং তাকে ভয় দেখানোর অভিযোগ জমা পড়তেই সক্রিয় হয় প্রশাসন। রাতেই এলাকায় হানা দিয়ে ওই কাউন্সিলারকে আটক করা হয় এবং দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: তৃণমূল কাউন্সিলারের গ্রেফতারি নিয়ে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিরোধীদের দাবি, “আইন যে সবার জন্য সমান, এই গ্রেফতারি তারই প্রমাণ।” অন্যদিকে, দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দল কোনো অনৈতিক কাজকে সমর্থন করে না এবং আইন আইনের পথেই চলবে।
বরাহনগরের সাধারণ মানুষের মধ্যে এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে চাপা উত্তেজনা যেমন রয়েছে, তেমনই অনেকের চোখেমুখেই ধরা পড়েছে স্বস্তির ছাপ। এখন দেখার, পুলিশি তদন্তে এই প্রভাবশালী নেতার আর কী কী কীর্তি সামনে আসে।