বিজেপির মেগা বৈঠকে বড় ঘোষণা: বাংলা থেকে ছত্তিশগড়, গেরুয়া ঝড়ের নেপথ্যে আসল রহস্য ফাঁস করলেন অরুণ সাউ!

বিধানসভা থেকে লোকসভা, আর এবার উপনির্বাচন— ছত্তিশগড় থেকে বাংলা, সবত্রই অব্যাহত মোদী ম্যাজিক। এই সাফল্যের ধারাকে উদযাপন করতে এবং আগামী দিনের রণকৌশল স্থির করতে রায়পুরে আয়োজিত হল ভারতীয় জনতা পার্টির দুই দিনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। মঙ্গলবার প্রদেশ পদাধিকারী ও কোর কমিটির বৈঠকের পর বুধবার আয়োজিত হয় প্রদেশ কার্যসমিতি। সেখানেই একটি রাজনৈতিক প্রস্তাব পেশ করে বিরোধী শিবিরকে কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অরুণ সাউ।

ছত্তিশগড়ের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা বিজেপির এই কার্যসমিতির বৈঠকে রাজনৈতিক প্রস্তাবটি নিজেই পেশ করেন অরুণ সাউ। তিনি জানান, ছত্তিশগড়ের মানুষ যেভাবে বিধানসভা এবং লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে আশীর্বাদ করেছেন, তার জন্য দল কৃতজ্ঞ। শুধু বড় নির্বাচনই নয়, সাম্প্রতিক রায়পুর দক্ষিণ উপনির্বাচন এবং পঞ্চায়েত ও পুরসভা নির্বাচনেও বিজেপির নিরঙ্কুশ জয় প্রমাণ করেছে যে, ডবল ইঞ্জিন সরকারের ওপর মানুষের আস্থা অটুট।

মোদী কি গ্যারান্টি ও উন্নয়নের অঙ্গীকার অরুণ সাউ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “বিষ্ণুদেব সায়ে-র নেতৃত্বে আমাদের সরকার মোদীর দেওয়া প্রতিটি গ্যারান্টি পূরণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ছত্তিশগড়ের মানুষ যে বিশ্বাসের ওপর ভর করে আমাদের ভোট দিয়েছেন, সেই সংকল্প পূরণে আমরা দিনরাত কাজ করছি। বিকশিত ভারতের লক্ষ্য নিয়ে বিকশিত ছত্তিশগড় গড়াই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।”

বাংলা ও অসমের জয় নিয়ে বিশেষ চর্চা বৈঠকে ভিনরাজ্যের সাফল্যের খতিয়ানও তুলে ধরেন ডেপুটি সিএম। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক আসন লাভ এবং সরকার গঠন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা হয়। এছাড়া অসমে টানা তৃতীয়বার এনডিএ সরকারের প্রত্যাবর্তন এবং প্রথমবারের মতো বিজেপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার বিষয়টিকেও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়। সাউয়ের মতে, পুদুচেরি থেকে শুরু করে কেরালা ও তামিলনাড়ুর মতো দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিতেও বিজেপির ভোট শতাংশ নজরকাড়াভাবে বেড়েছে।

সাফল্যের খতিয়ান বৈঠকে জানানো হয়, সম্প্রতি হওয়া ৯টি বিধানসভা উপনির্বাচনের মধ্যে ৬টিতেই জয়ী হয়েছে বিজেপি। এমনকি গুজরাটের পুরসভা নির্বাচনেও একতরফা জয় পেয়েছে গেরুয়া শিবির। কার্যসমিতির পক্ষ থেকে এই প্রতিটি রাজ্যের ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রায়পুরের এই বৈঠক আদতে বিজেপির আত্মবিশ্বাসকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। উন্নয়নের তাস এবং সাংগঠনিক মজবুত কাঠামোর ওপর ভর করেই যে আগামী দিনেও বিজেপি এগোতে চায়, তা অরুণ সাউয়ের কথাতেই স্পষ্ট।