হঠাৎ বিকট শব্দে হুড়মুড়িয়ে ধসল ১৭ বছরের পুরনো সেতু! আড্ডার মাঝেই নরকদর্শন ৫ যুবকের, এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য।

আড্ডার মাঝেই ঘনিয়ে এল ঘোর বিপদ। ১৭ বছরের পুরনো সেতুটি যে তাসের ঘরের মতো ধসে পড়বে, তা কল্পনাও করতে পারেননি গ্রামবাসীরা। বুধবার সকালে বিহারের রাজধানী পাটনার সাকসোহরা থানা এলাকার অন্তর্গত ডালোচক গ্রামে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার আকস্মিকতায় গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল দৃশ্যপট
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বুধবার বেলা ১১টা নাগাদ গ্রামের কয়েজন যুবক সেতুর রেলিংয়ে বসে গল্প করছিলেন। ঠিক সেই সময় হঠাৎ একটি বিকট শব্দ হয় এবং কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেতুটি ভেঙে পড়ে। রেলিংয়ে বসে থাকা যুবকরা সরাসরি ধ্বংসস্তূপের সাথে গভীর গর্তে ছিটকে পড়েন। মুহূর্তে ওই এলাকায় হাহাকার শুরু হয়ে যায়।
বাঁশ দিয়ে উদ্ধার অভিযান, তিনজনের অবস্থা সংকটজনক
দুর্ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই গ্রামবাসীরা উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কোনো আধুনিক যন্ত্রপাতি আসার অপেক্ষা না করে তারা বাঁশ ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় যুবকদের বের করে আনেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ‘ডায়াল ১১২’-এর একটি দল। পুলিশ ও স্থানীয়দের সাহায্যে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের মতে, আহত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। বর্তমানে তারা সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ, ক্ষোভে ফুঁসছে ডালোচক
এই সেতুটিই ছিল গ্রামের এক অংশের সঙ্গে অন্য অংশের সংযোগকারী প্রধান মাধ্যম। ১৭ বছরের পুরনো এই জরাজীর্ণ সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ধুঁকছিল বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। গ্রামবাসীদের দাবি, বারবার প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। এখন সেতুটি ভেঙে পড়ায় যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
আহত এক যুবকের কথায়, “সবকিছু এত দ্রুত ঘটে গেল যে আমরা পালানোর সুযোগ পর্যন্ত পাইনি।” এই ঘটনার পর প্রশাসনের উদাসীনতার বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন বাসিন্দারা। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে, অন্যথায় বড়সড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন গ্রামবাসীরা।