প্রশাসনিক বৈঠকে বিধায়কদের লম্বা লাইন! দুর্নীতির শিকড় উপড়াতে সচিবদের চরম ডেডলাইন দিলেন শুভেন্দু অধিকারী

রাজ্যে নতুন জমানায় দুর্নীতির ঠাঁই নেই—নবান্নের অলিন্দ থেকে এই বার্তাই কার্যত স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিকেলে রাজ্যের উচ্চপদস্থ সচিবদের নিয়ে একটি হাই-প্রোফাইল বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তিনি কড়া সুরে জানিয়ে দেন, প্রশাসনের কোনো স্তরেই বিন্দুমাত্র অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। স্বচ্ছতা ও গতিই হবে এই সরকারের মূল মন্ত্র।

বৈঠকের মধ্যমণি যখন বিধায়করা: মুখ্যমন্ত্রীর এই এদিনের বৈঠকটি ছিল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণত প্রশাসনিক বৈঠকে শুধুমাত্র আমলাদের উপস্থিতি দেখা গেলেও, এদিন মুখ্যমন্ত্রীর পাশেই দেখা গেল একঝাঁক হেভিওয়েট বিধায়ককে। উপস্থিত ছিলেন ইন্দ্রনীল খাঁ, রুদ্রনীল ঘোষ এবং রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো পরিচিত মুখেরা। এ ছাড়া আরও ১০ জনেরও বেশি বিধায়ক এই বিশেষ বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রশাসনের কাজকর্মে জনপ্রতিনিধিদের নজরদারি বাড়াতেই এই কৌশল নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

সচিবদের কড়া হুঁশিয়ারি: সূত্রের খবর, বৈঠক চলাকালীন বিভিন্ন দপ্তরের কাজের অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সাফ জানান, সাধারণ মানুষের কাজ ফেলে রাখা বা সরকারি প্রকল্পে দীর্ঘসূত্রিতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বিশেষ করে দুর্নীতির প্রসঙ্গে তিনি ছিলেন আপসহীন। আধিকারিকদের উদ্দেশে তাঁর সরাসরি বার্তা— “স্বচ্ছভাবে কাজ করুন, অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুত থাকুন।”

নতুন দিশার সন্ধানে প্রশাসন: ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী বারবার স্বচ্ছ প্রশাসনের ওপর জোর দিয়েছেন। আজকের বৈঠকে বিধায়কদের উপস্থিতি সেই বার্তার গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিল। আমলা ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে কীভাবে দ্রুত পরিষেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া যায়, এদিন সেই রূপরেখাই তৈরি করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ্য রাজনীতিতে এখন একটাই আলোচনা—মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পর প্রশাসনের নিচুতলায় দুর্নীতির কতটুকু অবসান ঘটে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।