“ব্রাহ্মণরা কি যোগীরাজ্যে অসুরক্ষিত?” লখনউতে বিজেপি নেতার ওপর হামলায় বিস্ফোরক মায়াবতী!

উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে দলিত-ব্রাহ্মণ সমীকরণ নতুন নয়। কিন্তু সম্প্রতি রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমাজমাধ্যমে একের পর এক তোপ দেগে সেই পুরনো বিতর্ককেই উসকে দিলেন বহুজন সমাজ পার্টি (BSP)-র প্রধান মায়াবতী। তাঁর দাবি, বর্তমানে উত্তরপ্রদেশে ব্রাহ্মণ সমাজ কেবল অবহেলিতই নয়, বরং চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
ব্রাহ্মণ নিরাপত্তায় বড় প্রশ্ন
রাজধানী লখনউতে সাম্প্রতিককালে এক তরুণ বিজেপি নেতার ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনাকে হাতিয়ার করেছেন মায়াবতী। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, বর্তমান সরকারের আমলে বিপ্র সমাজ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। নিজের শাসনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মায়াবতী বলেন, “বিএসপি-র আমলে ‘সর্বজন হিতায় ও সর্বজন সুখায়’ নীতি মেনেই ব্রাহ্মণসহ সমাজের সকল স্তরের মানুষের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিল।”
সাহারানপুরে জাতিগত সংঘাত
ব্রাহ্মণদের পাশাপাশি দলিতদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ নিয়েও সরব হয়েছেন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। গত ৯ই মে সাহারানপুরের দেওবন্দ এলাকার লালওয়ালা গ্রামে মাত্র দুই বিঘা জমিকে কেন্দ্র করে ঠাকুর ও দলিত সম্প্রদায়ের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাধে। পাথর ছোড়াছুড়িতে নারীসহ অন্তত আটজন আহত হন। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মায়াবতী। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ দলিতদের ওপর একতরফা লাঠিচার্জ ও ধরপাকড় চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সাংসদ চন্দ্রশেখর আজ গ্রামে যাওয়ার কথা থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে গৃহবন্দী করা হয়েছে। বর্তমানে গোটা এলাকা পুলিশি ছাউনিতে মুড়ে ফেলা হয়েছে।
মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণকে কটাক্ষ
যোগী সরকারের সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণকেও ছেড়ে কথা বলেননি মায়াবতী। তাঁর মতে, মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানো বা কমানো শাসকদলের অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও, যদি এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত না হয়, তবে জনগণ একে কেবল ‘রাজনৈতিক জুগাড়’ এবং সরকারি কোষাগারের ওপর বাড়তি বোঝা হিসেবেই দেখবে।
মায়াবতী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, দরিদ্র, শ্রমিক ও যুবকদের উন্নয়ন এবং নারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। যদি সমাজের দুর্বল অংশগুলো নিজেদের সুরক্ষিত মনে না করে, তবে এই রদবদল অর্থহীন।
উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে বিএসপি সুপ্রিমোর এই কড়া অবস্থান রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে বেশ উত্তপ্ত করে তুলল।