১৯৫ মিনিটেই হাওয়া ৯,৫০০ কোটি টাকা! মোদীর এক বার্তায় ধসে গেল আকাশপথের সাম্রাজ্য, মাথায় হাত লগ্নিকারীদের

ভারতীয় শেয়ার বাজারে সোমবার যেন প্রলয় নেমে এল বিমান ও ভ্রমণ সংস্থার শেয়ারে। গয়না শিল্পের পাশাপাশি আজ বড়সড় পতনের সাক্ষী থাকল এভিয়েশন সেক্টর। দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগোর শেয়ার দর হু হু করে নামতে শুরু করে এবং মাত্র ১৯৫ মিনিটের ব্যবধানে সংস্থাটির বাজারমূল্য থেকে প্রায় ৯,৫০০ কোটি টাকা মুছে যায়।

ইন্ডিগো ও স্পাইসজেটের রক্তক্ষরণ
বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (BSE)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইন্টারগ্লোব এভিয়েশন (ইন্ডিগো)-এর শেয়ার লেনদেন চলাকালীন ৫.৪২ শতাংশ কমে দিনের সর্বনিম্ন ৪,২৭৬.৮০ টাকায় নেমে আসে। এর ফলে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে কোম্পানিটির মূল্যায়ন ১.৭৪ লক্ষ কোটি টাকা থেকে কমে ১.৬৫ লক্ষ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। পিছিয়ে নেই স্পাইসজেটও, তাদের শেয়ার দরও কমেছে ৪ শতাংশের বেশি। কেবল বিমান সংস্থাই নয়, আইক্সিগো, যাত্রা অনলাইন এবং থমাস কুক-এর মতো ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর শেয়ারেও ৭ শতাংশ পর্যন্ত পতন দেখা গেছে।

নেপথ্যে প্রধানমন্ত্রীর ‘মাস্টারস্ট্রোক’ আবেদন?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধসের পেছনে অন্যতম বড় কারণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাম্প্রতিক এক আহ্বান। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির জেরে জ্বালানি সংকট ও সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর চাপের কথা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে অন্তত এক বছরের জন্য ‘অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ’ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। জাতীয় স্বার্থে পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি ভার্চুয়াল মিটিং ও ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ পদ্ধতি পুনরায় চালুর কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়ে যে, আগামী দিনে বিমান ভ্রমণের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে।

জ্বালানি তেলের আগুন ও ডলারে টান
শেয়ার বাজারে এই ধসের দ্বিতীয় কারণ হলো আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) আকাশছোঁয়া দাম। আমেরিকা ও ইরানের শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম ফের ব্যারেল প্রতি ১০৫ ডলারে পৌঁছেছে। বিমান সংস্থাগুলোর মোট ব্যয়ের একটি বড় অংশ খরচ হয় টারবাইন জ্বালানিতে। তেলের দাম বাড়লে সরাসরি প্রভাব পড়ে মুনাফার ওপর। এর ওপর টাকার অবমূল্যায়ন মরার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো কাজ করছে, কারণ বিমানের লিজ ও জ্বালানির দাম মেটাতে হয় ডলারে।

যাত্রীদের ওপর প্রভাব: বাড়ছে পকেটের চাপ
ভ্রমণপিপাসু ও সাধারণ যাত্রীদের জন্য এই খবর মোটেও সুখকর নয়। জ্বালানির খরচ সামাল দিতে বিমান সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে জ্বালানি সারচার্জ এবং টিকিটের দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। ফলে আগামী দিনে আকাশপথে যাতায়াত বা ছুটি কাটানোর খরচ সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নীতিগত আহ্বানের সাঁড়াশির চাপে এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে ভারতের এভিয়েশন ও ট্যুরিজম শিল্প। বিনিয়োগকারীরা এখন পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখছেন।