অধ্যক্ষের হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে মৃত্যুমিছিল! কলেজ ক্যাম্পাসে আত্মঘাতী যুবক, নেপথ্যে কি শিক্ষিকা প্রেমিকা?

উত্তরপ্রদেশের গোরখপুর জেলায় ঘটে গেল এক হাড়হিম করা ঘটনা। কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরেই নিজের জীবন শেষ করে দিলেন এক তরুণ অধ্যক্ষ। তবে মৃত্যুর আগে তিনি যা করে গিয়েছেন, তা দেখে শিউরে উঠছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আত্মহত্যার ঠিক আগে নিজের হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে একটি ভিডিও পোস্ট করেন তিনি, যেখানে নিজের মৃত্যুর জন্য দায়ী করেছেন প্রেমিকা ও তাঁর পরিবারকে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে জেলার চৌরি-চৌরা থানা এলাকায়।

নিখোঁজ হওয়ার পর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত যুবকের নাম ধীরাজ সিং (৩০)। তিনি স্থানীয় ইব্রাহিমপুর গ্রামের প্রাক্তন প্রধান দীনেশ সিংয়ের বড় ছেলে। দীনেশ সিং ‘যাদুবংশ সিং পার্বতী দেবী ইন্টার কলেজ’-এর ম্যানেজার এবং ধীরাজ ছিলেন সেই কলেজেরই অধ্যক্ষ। শনিবার কাজে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। রবিবার সকালে খোঁজ নিতে গিয়ে তাঁর ছোট ভাই সত্য প্রকাশ দেখেন, কলেজের একটি ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকতেই দেখা যায়, ফ্যানের হুক থেকে ধীরাজ সিংয়ের নিথর দেহ ঝুলছে।

সুইসাইড নোটে পরকীয়ার উল্লেখ
তল্লাশি চালিয়ে ধীরাজের পকেট থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানে তিনি নিজের এক সহকর্মী তথা ওই কলেজেরই এক শিক্ষিকার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের কথা বিস্তারিত লিখেছেন। ধীরাজের দাবি, প্রথমে দুই পরিবার বিয়েতে রাজি থাকলেও পরবর্তীতে ওই শিক্ষিকা ও তাঁর পরিবার পিছিয়ে যান। অভিযোগ, সম্পর্কটি বজায় থাকলেও ওই নারী মাঝেমধ্যেই ধীরাজকে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেল করতেন।

পরিবারের গুরুতর অভিযোগ ও তদন্ত
ধীরাজের পরিবারের দাবি, প্রেমিকার পরিবার থেকে ধীরাজকে খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। সেই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। চৌরি-চৌরা সার্কেল অফিসার জানিয়েছেন, ধীরাজের পোস্ট করা ভিডিও এবং সুইসাইড নোটটিকে প্রধান তথ্যপ্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেছে। এক শিক্ষকের এমন করুণ পরিণতিতে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।