১৫ বছর পর হাতে উঠল কাঁচি! কেন দেড় দশক চুল-দাড়ি কাটেননি এই চা বিক্রেতা? জানলে চমকে যাবেন!

দীর্ঘ ১৫ বছরের কঠোর সংকল্প, একগুচ্ছ জটা আর এক বুক জেদ— অবশেষে সবকিছুর অবসান ঘটল। ২০১১ সালে নেওয়া এক কঠিন রাজনৈতিক প্রতিজ্ঞা পূরণ করলেন উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার খাসপুর গ্রামের বাসিন্দা আশুতোষ পাল (তুলসি)। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল এবং তৃণমূল সরকারের পতনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে চুল-দাড়ি কেটে ন্যাড়া হলেন এই একনিষ্ঠ বাম সমর্থক।
২০১১-র সেই অগ্নিশপথ
পেশায় চা বিক্রেতা আশুতোষ পাল এলাকায় একজন সক্রিয় সিপিআইএম কর্মী হিসেবে পরিচিত। তাঁর দাবি, ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর এলাকায় যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার প্রতিবাদ জানাতেই তিনি এক অনন্য পথ বেছে নিয়েছিলেন। আশুতোষ শপথ করেছিলেন, যতদিন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের পতন ঘটছে, ততদিন তিনি তাঁর চুলে কাঁচি ছোঁয়াবেন না এবং দাড়িও কাটবেন না।
জটাধারী বেশে দেড় দশক
সেই থেকে শুরু। গত ১৫ বছর ধরে কাঁচি-ক্ষুর বর্জন করে কার্যত ‘জটাধারী’ বেশেই জীবন কাটিয়েছেন তিনি। তাঁর এই দীর্ঘ সংকল্প দেখে অবাক হতেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। অনেকে উপহাস করলেও নিজের লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন এই প্রবীণ বাম কর্মী। ১৯৭৮ সাল থেকে বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আশুতোষের কাছে এটি কেবল জেদ ছিল না, ছিল এক ধরণের রাজনৈতিক প্রতিবাদ।
পরিবর্তনের হাওয়া ও সংকল্প পূরণ
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন আশুতোষ। তাঁর মতে, নতুন সরকারের জমানায় এলাকায় সন্ত্রাসের আবহ অনেকটাই স্তিমিত। সোমবার ঘটা করে নাপিত ডেকে দীর্ঘদিনের অবিন্যস্ত চুল-দাড়ি বিসর্জন দেন তিনি। ন্যাড়া হওয়ার পর আশুতোষ বলেন, “যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, আমার একমাত্র লক্ষ্য ছিল এই সরকারের পতন দেখা। আজ সেই প্রতিজ্ঞা পূরণ হলো।”
এলাকায় চাঞ্চল্য
বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে দেখে আশুতোষ আশ্বস্ত। তিনি জানান, বর্তমানে কোনো অশান্তি হলে বিজেপি নেতারা রাজপথে নেমে তা রুখে দিচ্ছেন, যা গত কয়েক বছরে দেখা যায়নি। ১৫ বছর পর তাঁর এই আমূল ভোলবদল নিয়ে এখন সরগরম জেলা রাজনীতির অন্দরমহল। এক চা বিক্রেতার এই নীরব অথচ দীর্ঘ লড়াইয়ের কাহিনি এখন বাদুড়িয়ার মুখে মুখে।