“দেশ চালানো আর আপনার কাজ নয়!” তেলের দাম আর বিদেশি মুদ্রা বাঁচাতে মোদীর আরজিকে ‘ব্যর্থতা’ বলে বিঁধলেন রাহুল

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে টালমাটাল বিশ্ব অর্থনীতি। এই সংকট থেকে ভারতের রাজকোষ ও বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার রক্ষা করতে রবিবারই দেশবাসীর কাছে ‘ত্যাগের’ একগুচ্ছ আর্জি জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সেই দাওয়াইকে সরকারের ‘ব্যর্থতার দলিল’ বলে তোপ দাগলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সোমবার সামাজিক মাধ্যমে মোদীকে ‘আপোষকারী প্রধানমন্ত্রী’ বলে কটাক্ষ করে রীতিমতো আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি।

মোদীর সাতটি ‘জাতীয় কর্তব্য’
রবিবার হায়দরাবাদের এক জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পষ্ট করেন, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে পেট্রোল ও সারের দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে। বিশ্ববাজারের এই চাপ সামলাতে এবং ভারতের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার সুরক্ষিত রাখতে তিনি দেশবাসীকে কয়েকটি আচরণগত পরিবর্তনের অনুরোধ করেন:

জ্বালানি সাশ্রয়: পেট্রোল-ডিজেলের ব্যবহার কমাতে মেট্রো, কারপুলিং এবং ইলেকট্রিক গাড়ির ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ওয়ার্ক ফ্রম হোম: কোভিড আমলের মতো ফের বাড়ি থেকে কাজের সংস্কৃতিতে ফেরার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

বিলাসিতায় রাশ: অন্তত এক বছরের জন্য সোনা কেনা এবং বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত রাখার আর্জি জানান তিনি।

ভোজ্য তেল ও সার: আমদানি কমাতে রান্নার তেল ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানোর পরামর্শও দিয়েছেন মোদী।

প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “যেকোনো মূল্যে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচাতে হবে। এটি বর্তমান সময়ে একটি জাতীয় কর্তব্য।”

“এগুলো উপদেশ নয়, ব্যর্থতার প্রমাণ!”
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তৃতার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার কড়া প্রতিক্রিয়া দেন রাহুল গান্ধী। এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে রাহুল লেখেন, “মোদীজি জনগণকে ত্যাগ স্বীকার করতে বলছেন— সোনা কিনবেন না, বিদেশে যাবেন না, তেল কম খান। এগুলো কোনো উপদেশ নয়, এগুলো ওঁর শাসনের ব্যর্থতার প্রমাণ।”

লোকসভার বিরোধী দলনেতা আরও অভিযোগ করেন যে, গত ১২ বছরে দেশ এমন এক শোচনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এখন জনতাকে বলে দিতে হচ্ছে তারা কী কিনবে আর কোথায় যাবে। রাহুলের দাবি, সরকার নিজের জবাবদিহিতা এড়ানোর জন্য প্রতিবারই জনসাধারণের কাঁধে দায় চাপিয়ে দেয়। তিনি সাফ জানান, দেশ চালানো এখন আর এই ‘আপোষকারী প্রধানমন্ত্রীর’ সাধ্যের মধ্যে নেই।

সংকটে দেশপ্রেমের নতুন সংজ্ঞা
প্রধানমন্ত্রী মোদী যখন বিশ্ববাজারের অস্থিরতাকে ‘জাতীয় চরিত্রের অগ্নিপরীক্ষা’ হিসেবে তুলে ধরে নাগরিকদের সাশ্রয়ী হওয়ার ডাক দিচ্ছেন, তখন বিরোধীরা একেই হাতিয়ার করে সরকারের অর্থনৈতিক নীতিকে কাঠগড়ায় তুলছে। একদিকে অর্থনৈতিক আত্মরক্ষার কৌশল, অন্যদিকে রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার লড়াই— সব মিলিয়ে জ্বালানি ও বিদেশি মুদ্রার ইস্যু নিয়ে এখন সরগরম জাতীয় রাজনীতি।