আবার কি ফিরছে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’? সোনা কেনা ও বিদেশ ভ্রমণেও মোদীর কড়া নিষেধাজ্ঞা! জানুন বিস্তারিত

বিশ্বজুড়ে ঘনিয়ে আসা অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় এবার সরাসরি দেশের আমজনতার সাহায্য চাইলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার হায়দরাবাদের এক বিশাল জনসভা থেকে তিনি একাধিক কঠোর অথচ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ডাক দিয়েছেন। যার মধ্যে অন্যতম হলো— কোভিড আমলের সেই ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ পদ্ধতি পুনরায় ফিরিয়ে আনা এবং বিলাসিতায় রাশ টানা।
আবার কি ফিরছে করোনা আমলের জীবনযাত্রা?
প্রধানমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট জানান, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার রক্ষা করা একান্ত প্রয়োজন। তিনি দেশবাসীকে অনুরোধ করেন:
যেখানে মেট্রো আছে, সেখানে বেশি করে গণপরিবহন ব্যবহার করুন।
অফিসের কাজে ‘কারপুলিং’ এবং পণ্য পরিবহণে রেলকে অগ্রাধিকার দিন।
করোনা আবহে আমরা যে ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম, ভার্চুয়াল মিটিং এবং ভিডিও কনফারেন্সিং শিখেছি, তা এখন আবার ফিরিয়ে আনার সময় এসেছে।
সোনা কেনা ও বিদেশ ভ্রমণে না!
মধ্যবিত্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে তিনি অন্তত এক বছরের জন্য অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ এবং সোনা কেনা পরিহার করার অনুরোধ জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি রান্নার তেলের ব্যবহার অন্তত ১০% কমানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “এটি কেবল দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাবে না, আপনার পরিবারের স্বাস্থ্যেরও উন্নতি করবে।”
‘ভোকাল ফর লোকাল’ ও আত্মনির্ভরতা
মোদী সাফ জানান, তিনি কোনো বিদেশী পণ্য ফেলে দেওয়ার কথা বলছেন না, কিন্তু যত দ্রুত সম্ভব আমাদের আত্মনির্ভর হতে হবে। দৈনন্দিন ব্যবহারের পণ্য তালিকায় কোনগুলি বিদেশী, তা খুঁজে বের করে দেশীয় পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য তিনি ‘ভোকাল ফর লোকাল’ স্লোগানে জোর দেন। এছাড়া প্রাকৃতিক কৃষিকে উৎসাহিত করতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানোরও ডাক দেন তিনি।
বাংলা বিজয় ও বিরোধীদের কড়া আক্রমণ
হায়দরাবাদের মঞ্চ থেকে বাংলার প্রসঙ্গও উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর গলায়। বাংলার মাটিতে বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাংলার জনগণ তৃণমূলের বিপজ্জনক মডেলকে পরাজিত করেছে।” তৃণমূলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “টিএমসি কংগ্রেসের থেকে পরিবারতন্ত্র আর বামেদের থেকে সব খারাপ অভ্যাস শিখেছে।”
কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করে মোদী বলেন, “কংগ্রেস এখন বামপন্থীদের চেয়েও বেশি বামপন্থী এবং মুসলিম লিগের চেয়েও বেশি কট্টর হয়ে উঠেছে। মানুষ এখন কংগ্রেসকে ‘এমএমসি’ বা মুসলিম লীগ-মাওবাদী কংগ্রেস বলছে।”
বাংলার পরিবর্তনের ঢেউ যে এবার তেলেঙ্গানাতেও পৌঁছাবে, সেই আশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ এখন পরিবর্তন চাইছে এবং তেলেঙ্গানাতেও সুশাসন আনতে বিজেপি সরকার প্রয়োজন।