মাঝ আকাশে মৃত্যুদূত! কাঠমাণ্ডু বিমানবন্দরে তুর্কি বিমানে ভয়াবহ আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা ২৭৮ যাত্রীর

নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন প্রায় তিনশো যাত্রী। অবতরণের ঠিক পরেই ইস্তানবুল থেকে আসা তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে হঠাৎই আগুন লেগে যায়। এই ঘটনায় বিমানবন্দর জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কী ঘটেছিল রানওয়েতে?
সকাল তখন প্রায় গড়িয়েছে, ইস্তানবুল থেকে উড়ে আসা তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের TK 726 বিমানটি কাঠমাণ্ডুর রানওয়েতে অবতরণ করছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মাটি স্পর্শ করার মুহূর্তেই বিমানের চাকায় দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ। বিমানে সেই সময় ২৭৮ জন যাত্রী এবং ১১ জন ক্রু সদস্য ছিলেন।
যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ
বিমানে আগুন দেখার সঙ্গে সঙ্গেই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। বিমানবন্দরের অগ্নিনির্বাপক বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত ‘এমার্জেন্সি এগজিট’ (Emergency Exit) খুলে দেওয়া হয়। অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে ক্রু সদস্যরা সকল যাত্রীকে নিরাপদে বিমান থেকে বের করে আনতে সক্ষম হন। বড় কোনো হতাহতের খবর না থাকলেও, এই ঘটনায় যাত্রীদের মানসিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত শোচনীয়।
তদন্তের মুখে যান্ত্রিক ত্রুটি
জানা গিয়েছে, এই বিমানে বেশ কয়েকজন মার্কিন নাগরিকও ছিলেন। অবতরণের সময় কেন চাকায় আগুন ধরল, তা নিয়ে ইতিমধ্যে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে নেপাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। বিমানের ব্রেকিং সিস্টেমে কোনও গোলমাল ছিল নাকি অন্য কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই রানওয়েতে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়। এই অলৌকিক রক্ষা পাওয়ার ঘটনায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে নেপাল ও তুরস্কের বিমান প্রশাসন।