লক্ষ জনতা সাক্ষী! ব্রিগেডের মঞ্চে ৯৮ বছরের বৃদ্ধের পা ছুঁলেন মোদী; কে এই প্রবীণ? জানলে আপনিও কুর্নিশ জানাবেন!

তপ্ত রোদেও জনসমুদ্রের গর্জন আর গেরুয়া আবিরে ঢাকা পড়েছে তিলোত্তমার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড। নবগঠিত সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে কোনো রাজনৈতিক বক্তৃতায় নয়, বরং মঞ্চে মোদীর এক অভাবনীয় আচরণে আজ মুগ্ধ গোটা বাংলা। শপথের মঞ্চে এক প্রবীণ কর্মীর পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নিতে দেখা গেল দেশের প্রধানমন্ত্রীকে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আবেগঘন ভিডিও ঝড়ের বেগে ভাইরাল হয়েছে নেটপাড়ায়।
কে এই রহস্যময় প্রবীণ?
প্রধানমন্ত্রীর সশ্রদ্ধ কুর্নিশ আদায় করে নেওয়া এই বৃদ্ধের নাম মাখনলাল সরকার। বয়স ছুঁয়েছে ৯৮-এর কোঠা। তিনি কেবল প্রবীণ নন, বরং পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। যে সময়ে দাঁড়িয়ে বাংলায় জাতীয়তাবাদী রাজনীতির কথা ভাবা কঠিন ছিল, সেই সময় থেকে এই লড়াইয়ের কাণ্ডারি তিনি।
কাশ্মীরে কারাবাস ও শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর ছায়া
মাখনলাল সরকারের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতের টালমাটাল পরিস্থিতিতে। ১৯৫২ সাল—কাশ্মীরে ভারতীয় তেরঙ্গা পতাকা ওড়ানোর ডাক দিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী। সেই অগ্নিগর্ভ আন্দোলনে শ্যামাপ্রসাদের ছায়াসঙ্গী ছিলেন তরুণ মাখনলাল। সেই আন্দোলনের দায়ে তাঁকে কাশ্মীরে গ্রেফতারও হতে হয়েছিল।
সংগঠনের কারিগর
১৯৮০ সালে বিজেপি গঠনের পর উত্তরবঙ্গের মাটিতে সংগঠনের ভিত শক্ত করতে মাখনলাল সরকারের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। পশ্চিম দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলায় সমন্বয়কারীর দায়িত্ব নিয়ে মাত্র এক বছরে ১০ হাজার নতুন সদস্যকে দলে অন্তর্ভুক্ত করে তিনি রেকর্ড তৈরি করেছিলেন। টানা সাত বছর জেলা সভাপতির দায়িত্ব সামলানোর নজিরও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে, যা সেই সময়ে ছিল এক বিরল কৃতিত্ব।
ভিডিওতে ধরা পড়ল সেই মুহূর্ত
শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী মোদী যখন হুডখোলা গাড়িতে করে ব্রিগেডে প্রবেশ করেন, তখন হাজার হাজার সমর্থক তাঁকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। মঞ্চে উঠেই তিনি সরাসরি পৌঁছে যান মাখনলালের কাছে। সেখানে প্রবীণ এই কর্মীর পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নেন এবং সস্নেহে একটি শাল দিয়ে তাঁর শরীর ঢেকে দেন। শেষে হাসিমুখে এই প্রবীণ যোদ্ধাকে জড়িয়ে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিলধারণের জায়গা ছিল না ব্রিগেডে
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আজ ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড ‘জাফরানি সাগরে’ পরিণত হয়েছিল। বাংলা তো বটেই, ঝাড়খণ্ডের মতো প্রতিবেশী রাজ্য এমনকি বিদেশ থেকেও সমর্থকরা ভিড় জমিয়েছিলেন এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে। প্রধানমন্ত্রী সকাল ১০টার কিছু আগে দমদম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন এবং সেখান থেকে হেলিকপ্টার ও সড়কপথের সমন্বয়ে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ থেকে সাধারণ মানুষ—মোদীর এই ‘পাদস্পর্শ’ আর মাখনলাল সরকারের দীর্ঘ লড়াইকে আজ কুর্নিশ জানাচ্ছে সব মহলই।