হরমুজ প্রণালীতে চরম সংঘাত! মার্কিন মিসাইল বনাম ইরানি রণতরী—বিশ্বজুড়ে কি যুদ্ধের দামামা?

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত আকাশ আর সমুদ্রসীমায় আবারও ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের কালো মেঘ। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে মার্কিন ও ইরানি বাহিনী। একদিকে যখন যুদ্ধের পরিস্থিতি প্রশমিত করার জন্য আলোচনার টেবিল খোঁজা হচ্ছে, ঠিক তখনই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র (CIA) এক গোপন রিপোর্টে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—যা পেন্টাগনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
অবরোধেও অদম্য ইরান?
সিআইএ-র ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের প্রতিটি বন্দরের ওপর কঠোরতম অবরোধ আরোপ করে, তবুও দেশটি অন্তত আগামী চার মাস কোনো বড় অর্থনৈতিক ক্ষতি ছাড়াই টিকে থাকতে পারবে। এর অর্থ হলো, তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার যে পরিকল্পনা ওয়াশিংটন করেছিল, তা হয়তো খুব শীঘ্রই সফল হচ্ছে না। ইরানের হাতে থাকা বিশেষ রিজার্ভ এবং বিকল্প বাণিজ্যিক পথ এই চাপে ঢাল হিসেবে কাজ করছে।
সমুদ্রে হাড়হিম করা লড়াই
এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে জলপথে। ইরানের সংবাদ সংস্থা ‘ফার্স নিউজ’-এর দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে ইরানি বাহিনী এবং মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর মধ্যে একাধিক ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী সরাসরি দুটি ইরানি জাহাজকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। জানা গেছে, মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলি জাহাজ দুটির চিমনি লক্ষ্য করে আঘাত হানলে সেগুলো পিছু হটতে বাধ্য হয়। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও যে কোনো মুহূর্তে আবারও বারুদের স্তূপ জ্বলে উঠতে পারে।
সিআইএ রিপোর্ট নিয়ে বিতর্ক
তবে গোয়েন্দা বিভাগের এই রিপোর্ট নিয়ে খোদ মার্কিন প্রশাসনের মধ্যেই দ্বিমত দেখা দিয়েছে। একজন ঊর্ধ্বতন গোয়েন্দা আধিকারিক জানিয়েছেন, সিআইএ-র এই হিসেব হয়তো পুরোপুরি ঠিক নয়। তাঁর দাবি, বর্তমান অবরোধ ইতিমধ্যেই ইরানের বাণিজ্যে বড় আঘাত হেনেছে এবং দেশটির জাতীয় আয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
বিশ্ববাজারে প্রভাব ও ট্রাম্পের দাবি
এই সামরিক উত্তেজনার আঁচ লেগেছে বিশ্ব তেলের বাজারেও। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে ফের ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। জ্বালানি তেলের এই আকাশছোঁয়া দামে উদ্বেগে রয়েছে বিশ্বের আমদানিকারক দেশগুলো। এত কিছুর মধ্যেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ চললেও আপাতত যুদ্ধবিরতি বহাল রয়েছে এবং আলোচনা চালানোর চেষ্টা চলছে।
বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে এই ইঁদুর-বেড়াল লড়াই শেষ পর্যন্ত পরমাণু শক্তিধর দুই দেশকে কোথায় নিয়ে যায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল।