রাজভবনে ইতিহাস! ২০৭ আসনে জিতে বাংলার কুর্সিতে শুভেন্দু, শপথের আগেই বড় ঘোষণা দিলীপের

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে আজ। আজ শনিবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাধিক্য নিয়ে জয়ের পর, এই প্রথম রাজ্যে শুরু হচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টির শাসন।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আগেই মেজাজি মেজাজে ধরা দিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সাফ জানান, রাজ্যের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষেই রায় দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “আমরা দীর্ঘ লড়াই করেছি। তৃণমূল এবং কংগ্রেসের ক্ষমতার অপব্যবহার ও অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। আজ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন পূরণ হলো। মানুষ যোগ্য জবাব দিয়ে বিজেপিকে বেছে নিয়েছে।”
মমতাকে হারিয়ে দিল্লির নজর এখন শুভেন্দুতে
শুভেন্দু অধিকারী শুধু বিধানসভার দলনেতা নির্বাচিত হননি, তিনি এবারের নির্বাচনে এক অনন্য নজির গড়েছেন। ২০২১ সালের নন্দীগ্রামের জয়ের ধারা বজায় রেখে ২০২৬-এ তিনি নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—উভয় আসনেই জয়ী হয়েছেন। বিশেষত, ভবানীপুর আসনে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫,০০০-এর বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে তাঁর ‘জায়ান্ট কিলার’ ভাবমূর্তি আরও জোরালো করেছেন।
শুক্রবারই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতায় এসে শুভেন্দুকে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপরই শুভেন্দু রাজ্যপাল আর. এন. রবির সঙ্গে দেখা করে সরকার গড়ার দাবি জানান। তাঁর সঙ্গে রাজভবনে উপস্থিত ছিলেন দিলীপ ঘোষ, লকেট চট্টোপাধ্যায় ও তাপস রায়ের মতো শীর্ষ নেতারা।
শপথের আসরে চাঁদের হাট
বাংলার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণকে ঘিরে কলকাতায় এখন সাজ সাজ রব। এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শুক্রবারই শহরে পা রেখেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিং, জে পি নাড্ডা এবং ধর্মেন্দ্র প্রধান। উপস্থিত থাকছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা এবং অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাও।
নিজের নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদ এবং বিধায়কদের সমর্থনে আমি এই দায়িত্ব পেয়েছি। বিজেপিতে প্রকৃত গণতন্ত্র আছে। নির্বাচনের সময় আমরা মানুষের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করব।”
সূত্রের খবর, রাইটার্স বিল্ডিং বা মহাকরণ থেকেই আপাতত রাজপাট চালাবেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর জন্য সেখানে নির্দিষ্ট ঘর তৈরির কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর বাংলার মসনদে এই পরিবর্তন জাতীয় রাজনীতিতেও এক বড়সড় মোড় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।