ভারতে ড্রোন আর সার্ভার বানাবে Google! অশ্বিনী বৈষ্ণবের এক পোস্টেই তোলপাড় টেক দুনিয়া

ভারতে ড্রোন এবং হাই-টেক সার্ভার তৈরির পথে বড়সড় পদক্ষেপ নিল বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী টেক জায়ান্ট গুগল (Google)। কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব স্বয়ং এই মেগা বিনিয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছেন। সম্প্রতি নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি পোস্টের মাধ্যমে মন্ত্রী জানান, ভারতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) পরিকাঠামো গঠন এবং ড্রোন উৎপাদনে বিপুল বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে মাউন্টেনভিউ-এর এই সংস্থাটি।
অশ্বিনী বৈষ্ণব তাঁর পোস্টে গুগল প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের একটি ছবি শেয়ার করে লেখেন, “ভারতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে গুগল। পাশাপাশি ভারতে সার্ভার ও ড্রোন তৈরি করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।”
১৮৫ বিলিয়ন ডলারের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা:
গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই এর আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে তারা বিশ্বজুড়ে মোট ১৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করবেন। গত এপ্রিল মাসে ‘গুগল ক্লাউড নেক্সট ২০২৬’ (Google Cloud Next 2026) সম্মেলনে পিচাই স্পষ্ট করে দেন, মেশিন লার্নিংয়ের তুলনায় ক্লাউড ব্যবসায় বিনিয়োগের হার ৫০ শতাংশ বাড়ানো হবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে সাম্প্রতিক এই বৈঠক সেই লক্ষ্যেরই বাস্তব রূপায়ন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে AI ইকোসিস্টেম:
অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে ইতিমধ্যেই ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি ‘গিগাওয়াট স্কেল’ AI ইকোসিস্টেম তৈরির কাজ শুরু করেছে গুগল। এই প্রকল্পের জন্য অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার প্রায় ৬০০ একর জমি বরাদ্দ করেছে। ১ গিগাওয়াট ক্ষমতার এই বিশাল ডাটা সেন্টারটি ভারতের প্রযুক্তিগত মানচিত্রকে আমূল বদলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতের ওপর ভরসা গুগলের:
পিক্সেল ফোন (Pixel Phone) তৈরির জন্য ইতিমধ্যেই ফক্সকন (Foxconn) এবং ডিক্সন (Dixon)-এর মতো সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়েছে গুগল। এর পাশাপাশি এইচপি (HP) এবং ফ্লেক্স (Flex)-এর সহযোগিতায় ভারতেই তৈরি হচ্ছে ক্রোমবুক। অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, “ভারত এখন বিশ্বজুড়ে বৈদ্যুতিন সামগ্রী উৎপাদনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাপ্লাই চেইন পার্টনার হয়ে উঠছে।”
স্মার্টফোন এবং ল্যাপটপের পর এবার ড্রোন ও সার্ভার তৈরির এই সিদ্ধান্ত ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ অভিযানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, গুগলের এই পদক্ষেপ ভারতের কর্মসংস্থান এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কতটা গতি আনে।