এক ফোঁটা জলের জন্য ‘অভিশপ্ত’ জীবন! বিয়ে দিতেও ভয় পাচ্ছেন বাবা-মায়েরাও, প্রশাসনের কি ঘুম ভাঙবে?

তীব্র দাবদাহে যখন মধ্যপ্রদেশের পারদ চড়ছে, ঠিক তখনই আগর মালওয়া জেলার পায়রি গ্রামে শুরু হয়েছে এক অমানবিক লড়াই। রাজাখেড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত এই গ্রামের মানুষের কাছে গ্রীষ্মকাল মানেই এক বিভীষিকা। ভোর হওয়ার আগেই গ্রামের নারী, শিশু এবং বয়স্করা মাথায় কলসি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন জলের খোঁজে। দুর্গম পাহাড়ি পথ আর প্রখর রোদ উপেক্ষা করে প্রতিদিন ২-৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়াটাই এখন তাঁদের নিয়তি।

কোটি টাকার পাইপলাইন, অথচ শুকনো কলসি
গ্রামবাসীদের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে প্রশাসনের অর্ধেক শেষ হওয়া কিছু পরিকল্পনা। কয়েক বছর আগে ঘটা করে গ্রাম পর্যন্ত জলের পাইপলাইন বসানো হয়েছিল। কিন্তু রহস্যজনকভাবে আজ পর্যন্ত তাতে মোটর লাগানো হয়নি। ফলে ‘প্রতিটি ঘরে জল’-এর স্লোগান কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। গ্রামের মানুষ বলছেন, কোটি কোটি টাকার প্রকল্প যদি এক ফোঁটা জলই না দিতে পারে, তবে সেই পরিকল্পনার অর্থ কী?

শৈশব বিসর্জন আর জীবনের শেষ বিকেলের দীর্ঘশ্বাস
এই জল সংকট কেড়ে নিচ্ছে গ্রামের কচিকাচাদের ভবিষ্যৎ। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী জ্যোতি জানায়, জলের সন্ধানে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা নষ্ট হওয়ায় সে স্কুলে যেতে পারছে না। অন্যদিকে, বয়স্কা আশা বাঈয়ের মতো মানুষরা জীবনের শেষ প্রান্তেও শান্তি পাচ্ছেন না। পাহাড়ি ও এবড়োখেবড়ো রাস্তায় জল আনতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই পিছলে পড়ে জখম হচ্ছেন মহিলারা। তবুও তেষ্টা মেটাতে সেই ঝুঁকি নিয়েই চলতে হচ্ছে তাঁদের।

বিয়ে নিয়ে বিপাকে গ্রামবাসী: “মেয়ে দেব না ওই গ্রামে”
জল সংকটের প্রভাব এখন সামাজিক সম্পর্কেও থাবা বসিয়েছে। পায়রি গ্রামের পরিস্থিতি এতটাই শোচনীয় যে, অন্য গ্রামের পরিবারগুলো তাদের মেয়েদের এখানে বিয়ে দিতে রাজি হচ্ছে না। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, “আমাদের গ্রামের যুবকদের কপালে জল নেই, তাই কনেও নেই।” নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেও কাজ শেষে তাঁদের আর দেখা মেলে না।

অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের উদাসীনতায় ক্রমশ ফুঁসছে পায়রি গ্রাম। একদিকে শুকিয়ে যাওয়া কুয়ো আর অন্যদিকে অকেজো পাইপলাইন—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে গ্রামবাসীদের জীবন এখন ওষ্ঠাগত। তাঁদের সামনে এখন একটাই বড় প্রশ্ন—জলের জন্য এই অমানবিক সংগ্রাম আর কতদিন চালিয়ে যেতে হবে তাঁদের? প্রশাসন কি সত্যিই কোনো স্থায়ী সমাধান করবে, নাকি প্রতি বছরের মতো এবারও আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ থাকবে সব?