“রাত্রে ঘুমোতে দিত না আইপ্যাক, পুলিশ দিয়ে চলত নজরদারি!” মমতার জয়ের স্বপ্ন চুরমার হতেই কেন ফুঁসছেন তৃণমূল নেতারা?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয়ের পর এবার দলের অন্দরের ক্ষোভের আগ্নেয়গিরি সজোরে ফাটতে শুরু করেছে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই হারের দায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছিলেন জেলা স্তরের কর্মীরা। কিন্তু এবার সরাসরি ‘ভাইপো’ ও ‘আইপ্যাক’ (I-PAC) সংস্কৃতির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক সব অভিযোগ এনে তোলপাড় ফেলে দিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের রামজীবনপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান কল্যাণ তিওয়ারি।

“পুলিশ আর আইপ্যাকের ভয়ে রাতে ঘুম আসত না”
কল্যাণবাবুর অভিযোগ, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই দলে একনায়কতন্ত্র শুরু হয়েছিল। তিনি বলেন, “রাত বাড়লেই আইপ্যাকের ফোন আসত। হুমকি দেওয়া হত যে কাজ না করলে বদলে দেওয়া হবে। দল ছাড়ার উপায় ছিল না, কারণ প্রতি পদে পুলিশের ভয় দেখানো হত। এমনকি আমরা কোন নেতার সাথে মিশব, কার সাথে কথা বলব— তা পর্যন্ত পুলিশ ঠিক করে দিত।” তাঁর দাবি, দলের পুরনো কর্মীদের সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

বিধায়কদের চরম অপমান ও অভিষেক-ভীতি
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে চেয়ারম্যান বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে দেখা করতে গেলে একজন নির্বাচিত বিধায়ককেও পেন এবং কোমরের বেল্ট বাইরে রেখে ভিতরে ঢুকতে হত। এটা জন প্রতিনিধিদের জন্য চরম অবমাননাকর। অভিষেক আমাদের নেতা নয়, তাকে জোর করে ‘দাদা’ বলতে বাধ্য করা হয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন, শুভেন্দু অধিকারী দল ছাড়ার পর থেকেই পুলিশি নজরদারি ও ভয়ের রাজনীতি চরমে উঠেছিল।

“পৌরসভার টাকা নয়ছয় করতে চাপ দিত ভাইপো”
আর্থিক বিষয়েও গুরুতর অভিযোগ এনেছেন কল্যাণ তিওয়ারি। তাঁর দাবি, বিভিন্ন জায়গায় দলের মিটিং-মিছিলের জন্য পৌরসভার চেয়ারম্যানদের কাছে মোটা অংকের টাকা পাঠানোর নির্দেশ আসত। কিন্তু সেই টাকা কোথা থেকে আসবে, তা নিয়ে কেউ মাথা ঘামাত না। তাঁর সাফ কথা, “এই ‘ভাইপো’ শব্দটাই দলের সর্বনাশ করেছে। তৃণমূলের কর্মীরা ভালো আছেন কি না, তার খোঁজ নেওয়ার সময় কারও ছিল না।”

অভিষেককে খোলা চ্যালেঞ্জ ও শুভেন্দু-স্তুতি
বক্তব্যের শেষলগ্নে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “দেখি তোমার কত দম আছে, এবার পুলিশ আর আইপ্যাক ছাড়া রাস্তায় নেমে রাজনীতি করে দেখাও।” উল্লেখ্য, তৃণমূলের এই ভরাডুবির মুহূর্তে কল্যাণবাবুর গলায় শোনা গেছে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা। তাঁর মতে, দলে অভিষেকের প্রাধান্য বাড়ার কারণেই শুভেন্দুর মতো নেতারা দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন, যার ফল আজ হাতেনাতে পাচ্ছে তৃণমূল।

ছাব্বিশের ধাক্কায় তৃণমূলের ঘর ভাঙার এই খেলা যে কেবল শুরু, তা কল্যাণ তিওয়ারির এই কড়া আক্রমণ থেকেই স্পষ্ট। এখন দেখার, এই বিদ্রোহের আগুন কালীঘাট পর্যন্ত কতটা আঁচ ছড়ায়।