“ওরা আমাদের ভোট দেয় না, দায় নেই বিজেপির!” মন্ত্রিত্ব জল্পনার মাঝে চরম বোমা ফাটালেন দিলীপ!

বাংলায় পরিবর্তনের হাওয়ায় গেরুয়া শিবির এখন সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। কিন্তু এই নতুন মন্ত্রিসভায় ‘সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতর’ কি আদৌ থাকছে? আর যদি থাকে, তবে তার দায়িত্ব কে সামলাবেন? এই প্রশ্ন ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। আর এই বিতর্কের আগুনে ঘি ঢাললেন খোদ বিজেপির হেভিওয়েট নেতা দিলীপ ঘোষ।
দায় নেই বিজেপির? বিস্ফোরক দিলীপ
সংখ্যালঘু দফতরের মন্ত্রী কে হবেন— সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর দেননি দিলীপ ঘোষ। তবে তাঁর করা মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। তিনি সাফ জানান, বিগত বছরগুলোতে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বা সংখ্যালঘুদের তোষণমূলক উন্নয়ন হয়েছে। দিলীপের কথায়, “সংখ্যালঘুদের আলাদা করে উন্নয়ন করার কোনো দায় নেই বিজেপির। কারণ ওরা আমাদের ভোটও দেয় না।” তাঁর এই সরাসরি আক্রমণ রাজ্যের শাসক দলের ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির দিকেই ইঙ্গিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে কি দফতরই বিলুপ্ত হচ্ছে?
দিলীপ ঘোষের এই অবস্থানে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে যে, নয়া বিজেপি মন্ত্রিসভায় সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতর বলে আলাদা কিছু থাকবে কি না। যদিও তিনি স্পষ্ট করে দেননি যে দফতরটি তুলে দেওয়া হবে কি না, তবে তাঁর শরীরী ভাষা ও বক্তব্যে এটা পরিষ্কার যে, বিজেপি কোনো ‘বিশেষ তোষণ’-এর পথে হাঁটতে নারাজ।
মোদীর ‘সবকা সাথ’ মন্ত্রে ভরসা
দিলীপ ঘোষ নিজের বক্তব্যে বিতর্কের সুর চড়ালেও শেষমেশ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উন্নয়নের আদর্শকেই ঢাল করেছেন। তিনি বলেন, “নরেন্দ্র মোদী কোনো জাতি বা ধর্ম দেখে উন্নয়ন করেন না। উন্নয়ন সবার জন্য হবে।” অর্থাৎ, আলাদা করে কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের জন্য নয়, বরং রাজ্যের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে জেতার পর বিজেপি এখন তাদের ‘কোর আইডিওলজি’ বা মূল ভাবধারা অনুযায়ী প্রশাসন চালাতে মরিয়া। দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য সেই পরিকল্পনারই একটি প্রাথমিক ঝলক মাত্র। এখন দেখার, আগামীকাল ব্রিগেডের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে এই দফতর নিয়ে কোনো বড় ঘোষণা আসে কি না।