বিজয়কে রুখতে দুই চিরশত্রু একজোট? মেগা টুইস্ট তামিল রাজনীতিতে, গণ-ইস্তফার চরম হুমকি থালাপতির!

দক্ষিণের মেগাস্টার থালাপতি বিজয়ের রাজনৈতিক ইনিংস কি শুরুর আগেই ধাক্কা খেল? তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর এখন এমনই নাটকীয় মোড় নিয়েছে সেখানের রাজনীতি। ২৩৪ আসনের বিধানসভায় ১০৮টি আসন জিতে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেট্টরি কাজ়াগাম’ (TVK)। কিন্তু ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে না পারায় তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত সাংবিধানিক অচলাবস্থা।

রাজভবনের গেরোয় বিজয়, গণ-ইস্তফার হুমকি
কংগ্রেসের ৫ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিজয়ের ঝুলিতে এখন ১১৩ জন বিধায়ক। কিন্তু সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ জন। গত দুদিন ধরে রাজ্যপালের দরজায় কড়া নাড়লেও খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে থালাপতিকে। রাজ্যপালের দাবি, পর্যাপ্ত সংখ্যা না থাকলে শপথগ্রহণ সম্ভব নয়। আর এতেই ক্ষুব্ধ বিজয়ের দল। টিভিকে-র অন্দরমহল থেকে খবর, গণতন্ত্রের এই অপমান মেনে নেওয়ার চেয়ে নবনির্বাচিত বিধায়করা গণ-ইস্তফা দিতে পারেন। বিজয় নিজে সরাসরি মুখ না খুললেও, দলের নেতারা সাফ জানিয়েছেন, একক বৃহত্তম দলকে সুযোগ না দেওয়াটা চরম প্রহসন।

অসম্ভব যখন সম্ভব: ডিএমকে-এআইএডিএমকে হাত মেলাচ্ছে?
তামিল রাজনীতির সবথেকে বড় বোমাটি সম্ভবত ফাটতে চলেছে খুব শীঘ্রই। রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে এক অবিশ্বাস্য জোটের কথা। বিজয়কে ক্ষমতার বাইরে রাখতে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ডিএমকে (৫৯ আসন) এবং এআইএডিএমকে (৪৭ আসন) গোপনে হাত মেলানোর পরিকল্পনা করছে। রাজনীতির দুই ধুরন্ধর মুখ স্ট্যালিন ও পালানিস্বামী কি একজোট হতে পারেন? এই জল্পনা যদি সত্যি হয়, তবে দক্ষিণী রাজনীতির সমীকরণ আমূল বদলে যাবে।

ম্যাজিক ফিগার বনাম গণতন্ত্রের দাবি
বিজয় শিবিরের অভিযোগ, অতীতে অনেক রাজ্যে ম্যাজিক ফিগার না থাকা সত্ত্বেও একক বৃহত্তম দলকে সরকার গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে। তাহলে তামিলনাড়ুর ক্ষেত্রে কেন ব্যতিক্রমী নিয়ম হচ্ছে? কেন কংগ্রেসের সমর্থন সত্ত্বেও তাঁদের ব্রাত্য রাখা হচ্ছে? ৯ মে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তার আগেই যদি কোনো সুরাহা না হয়, তবে তামিলনাড়ু রাষ্ট্রপতি শাসনের দিকে এগোতে পারে বলেও মনে করছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা।

বিজয় কি শেষ পর্যন্ত তামিলনাড়ুর মসনদে বসবেন, নাকি দুই রাজনৈতিক হেভিওয়েটের কৌশলে মাঠের বাইরেই থাকতে হবে পর্দার সুপারস্টারকে? উত্তর মিলবে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। সারা দেশের নজর এখন চেন্নাইয়ের রাজভবনের দিকে।