ভাঙা বেঞ্চ, নেই আলো-পাখা! সরকারি স্কুলের জীর্ণ দশা হার মানাল ষষ্ঠ স্থানাধিকারী সোহিনীর লড়াইয়ের কাছে!

প্রকাশিত হল ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল। চলতি বছরে পাশের হার ৮৬.৮৩ শতাংশ। তবে ফলাফলের ট্রেন্ড বলছে, শহর কলকাতাকে টেক্কা দিয়ে মেধা তালিকায় ফের একবার আধিপত্য বজায় রাখল জেলাগুলি। এবারের মেধা তালিকায় কালিম্পং পাশের হারে শীর্ষস্থান দখল করেছে, ঠিক তার পরেই রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর। তবে সবচেয়ে বড় চমক মেধা তালিকার প্রথম দশে কলকাতার কোনো পরীক্ষার্থীর নাম না থাকা।

মেধা তালিকায় সরকারি স্কুলের জয়জয়কার
বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে যখন অনেক অভিভাবকই বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের দিকে ঝুঁকছেন, তখন মাধ্যমিকের ফলাফল প্রমাণ করে দিল সরকারি স্কুলের মান ও পড়ুয়াদের লড়াই। প্রথম দশে থাকা ১৩১ জন পড়ুয়ার মধ্যে একটি বড় অংশই সরকারি স্কুলের ছাত্রছাত্রী। এদের মধ্যেই অন্যতম হুগলির পাড়াম্বুয়া জগদ্ধাত্রী হাইস্কুলের সোহিনী কোলে। ৬৯২ নম্বর পেয়ে সে রাজ্যে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছে।

পরিকাঠামোর অভাব বনাম মেধার লড়াই
সোহিনীর সাফল্যে খুশি তার শিক্ষক বাবা গোরাচাঁদ বাবু এবং মা শম্পা দাস। পেশায় শিক্ষক গোরাচাঁদ বাবু জানান, “সরকারি বা বেসরকারি বড় কথা নয়, সিলেবাস ও সঠিক পরিকল্পনা থাকলে যেকোনো স্কুল থেকেই ভালো ফল সম্ভব।” তবে সোহিনীর মা সরকারি স্কুলের বর্তমান জীর্ণ পরিকাঠামো নিয়ে বিস্ফোরক কিছু তথ্য তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, যে স্কুলে পড়ে সোহিনী আজ রাজ্যের নাম উজ্জ্বল করল, সেখানে নেই পর্যাপ্ত আলো-পাখা, এমনকি ব্ল্যাকবোর্ডে রং করার টাকা পর্যন্ত নেই। এই কঠিন প্রতিকূলতা জয় করেই সোহিনী আজ সাফল্যের শিখরে।

ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ডাক্তার হওয়া
কোনো কঠোর রুটিন মেনে নয়, বরং যখন ইচ্ছে হয়েছে তখনই পড়তে বসেছে সোহিনী। স্কুল এবং গৃহশিক্ষকদের সহযোগিতায় আজ সে এই জায়গায়। আপাতত তার লক্ষ্য ডাক্তার হওয়া। সোহিনী জানায়, সে ইতিমধ্যেই নিট (NEET)-এর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। গ্রামের ভিতরের স্কুল থেকেও যে আকাশছোঁয়া স্বপ্ন দেখা যায় এবং তা সফল করা যায়, সোহিনী কোলে আজ তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করেও যে জাতীয় স্তরে প্রতিযোগিতার জন্য নিজেকে তৈরি করা যায়, সোহিনীর এই লড়াই আগামী দিনের হাজারো সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।