“গরম গরম বক্তৃতা নয়, এবার কাজ!” বিবেক অগ্নিহোত্রীর হুঙ্কার, শুক্রবার থেকেই প্রেক্ষাগৃহে দেখা যাবে ‘বেঙ্গল ফাইলস’

ছাব্বিশের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের মাত্র ৯৬ ঘণ্টা। আর তার মধ্যেই বাংলার বিনোদন ও রাজনৈতিক মহলে সবথেকে বড় খবর— অবশেষে জট কাটল ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’-এর। দীর্ঘ টালবাহানা আর বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে আগামী শুক্রবার রাজ্যের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে বিবেক অগ্নিহোত্রীর এই বহুচর্চিত সিনেমা।
২০২৫ সালে ছবির ঘোষণার পর থেকেই সরগরম ছিল গঙ্গার এপাড়-ওপাড়। তৎকালীন শাসকদল তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই ছবিকে ‘বিজেপির প্রোপাগান্ডা’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। শুধু রাজনৈতিক বিরোধিতা নয়, আইনি গেরোতেও ফেঁসেছিলেন পরিচালক। ছবির বিষয়বস্তু নিয়ে খোদ গোপালচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের (গোপাল পাঁঠা) পরিবার আদালতে মামলা দায়ের করেছিল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় বা সৌরভ দাসের মতো অভিনেতাদেরও ‘বাঙালি বিরোধী’ তকমা দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল আক্রমণ করা হয়।
বিগত এক বছর কার্যত ‘অলিখিত নিষেধাজ্ঞা’র কবলে ছিল এই ছবি। এমনকি রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করতেও পরিচালক কুন্ঠাবোধ করছিলেন বলে জানা যায়। তবে সোমবার বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ এবং রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটতেই যেন রাতারাতি বদলে গেল চেনা ছবিটা।
এক ভিডিও বার্তায় নিজের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী। তিনি বলেন, “কাশ্মীর ফাইলস-এর সময় থেকেই আমাকে একঘরে করার চেষ্টা চলেছে। গত বছর ট্রেলার লঞ্চ করতে গিয়ে আমাদের ওপর শারীরিক হামলা হয়, ডজন ডজন এফআইআর করা হয়েছে আমার নামে। কিন্তু আমরা দমে যাইনি।”
বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে উচ্ছ্বসিত ছবির কলাকুশলীরা। পরিচালক জানিয়েছেন, এবার শুধু কলকাতা নয়, জেলার প্রতিটি সিনেমা হলে পৌঁছে দেওয়া হবে ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’। আইনি বাধা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন পেরিয়ে এই ছবি বড় পর্দায় কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সিনেমা প্রেমীরা।