সরকার বদলাতেই SSC-তে বড় ধাক্কা! সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের মাঝেই হঠাত বন্ধ নিয়োগ, কপালে ভাঁজ চাকরিপ্রার্থীদের

বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের প্রভাব এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল শিক্ষা দপ্তরে। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই থমকে গেল স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া। নতুন শিক্ষামন্ত্রী এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ না করায় থমকে রয়েছে শূন্যপদের চূড়ান্ত তালিকা, যার জেরে আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে কাউন্সেলিং ও ইন্টারভিউ-সহ নিয়োগের যাবতীয় কাজ। সুপ্রিম কোর্টের কড়া ডেডলাইন থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ থমকে যাওয়ায় রাজ্যের হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর মনে এখন তীব্র উৎকণ্ঠা দানা বেঁধেছে।

কেন থমকে গেল নিয়োগ প্রক্রিয়া?
এসএসসি সূত্রে খবর, ভোট গণনার পরেই উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক নিয়োগের কাউন্সেলিং শুরু করার কথা ছিল। পাশাপাশি নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের জন্য সাক্ষাৎকারের সূচিও প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রশাসনিক পরিবর্তনের জেরে সেই পরিকল্পনা আপাতত বিশ বাঁও জলে।

মূল সমস্যা দেখা দিয়েছে শূন্যপদের সংশোধিত তালিকা নিয়ে। নতুন সরকার এলেও শিক্ষা দপ্তরের শীর্ষস্তরে রদবদল এবং নতুন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন হয়নি। ফলে দপ্তর থেকে কমিশনের হাতে শূন্যপদের নির্ভুল তথ্য এসে পৌঁছয়নি। কমিশনের এক আধিকারিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্ভুল শূন্যপদ ছাড়া স্বচ্ছ নিয়োগ সম্ভব নয়, তাই বাধ্য হয়েই আপাতত সমস্ত প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে।

বিপাকে হাজার হাজার পরীক্ষার্থী:
বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ১২ হাজার ৫১৪টি এবং মাধ্যমিক স্তরে ২৩ হাজার ৩১৪টি পদে নিয়োগের গুরুদায়িত্ব রয়েছে কমিশনের ওপর। শুধু শিক্ষক নয়, অশিক্ষক কর্মীদের উত্তরপত্র স্ক্যানিংয়ের কাজও আপাতত বন্ধ। ২০১৬-র নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বড়সড় পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়ার পর, আগামী ৩১ অগাস্ট, ২০২৬-এর মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে আদালত। কিন্তু বর্তমান প্রশাসনিক স্থবিরতা সেই সময়সীমা মানা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে।

প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক—সর্বত্রই মেঘ:
কেবল এসএসসি নয়, থমকে রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ভাইভা এবং অ্যাপটিটিউড টেস্টও। অনেক চাকরিপ্রার্থী নিয়োগের সুপারিশ পেলেও তাঁদের ভবিষ্যৎ এখনও ঝুলে রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই শিক্ষা দপ্তরের কাছে জরুরি তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল কি তবে চাকরিপ্রার্থীদের অপেক্ষার অবসান ঘটাবে, নাকি প্রশাসনিক জটিলতায় নিয়োগ আরও দীর্ঘায়িত হবে? এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বাংলার শিক্ষিত যুবসমাজ।