পাহাড়-জঙ্গল আর রুপোলি নদী! কলকাতার কাছেই লুকিয়ে আছে এক ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’, না দেখলে পস্তাবেন

ইট-কাঠ-পাথরের খাঁচা থেকে মুক্তি পেতে চাইছেন? অথচ হাতে সময় খুব কম? কলকাতার একদম ঢিল ছোড়া দূরত্বে আপনার অপেক্ষায় রয়েছে পাহাড়, ঘন জঙ্গল আর বয়ে চলা শান্ত নদী। বাঁকুড়া শহরের মাত্র ৩০ কিমি দূরেই অবস্থিত এই অপূর্ব ‘বিসিন্দা পাহাড়’, যা এখন পর্যটকদের কাছে পছন্দের উইকেন্ড ডেস্টিনেশন হয়ে উঠেছে।

প্রকৃতির মাঝে শান্তির ঠিকানা:
বিসিন্দা পাহাড়ের বিশেষত্ব হলো এর শান্ত ও স্নিগ্ধ পরিবেশ। পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়ালে যতদূর চোখ যাবে, মনে হবে ধরণী যেন সবুজ গালিচা বিছিয়ে রেখেছে। চাষজমি আর অরণ্যের এই মেলবন্ধন রুক্ষ বাঁকুড়ার বুকেও এক মনোরম রূপ ফুটিয়ে তুলেছে। শহরের কোলাহল ভুলে কয়েকটা দিন নির্জনে কাটানোর জন্য এই পাহাড়ের তুলনা নেই।

ধর্ম ও রোমাঞ্চের যুগলবন্দী:
কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নয়, আধ্যাত্মিক টানেও পর্যটকরা ভিড় করেন এখানে। পাহাড়ের গা ঘেঁষে তৈরি হওয়া সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠলেই প্রথমেই চোখে পড়বে বজরংবলীর মূর্তি। আরও কিছুটা উঠলে দেখা মিলবে শিবলিঙ্গের। তবে এই পাহাড়ের মূল আকর্ষণ হলো জাগ্রত ‘দেবী নাচনচণ্ডীর থান’। দেবী দর্শন সেরে জঙ্গল ঘেরা মেঠো পথ ধরে পৌঁছে যাওয়া যায় একেবারে পাহাড়ের শিখরে।

কীভাবে যাবেন?
কলকাতা থেকে বিসিন্দা পাহাড়ের দূরত্ব মাত্র ২০৪ কিমি। সড়কপথে নিজস্ব গাড়ি বা ভাড়ার গাড়িতে গেলে সময় লাগবে বড়জোড় ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা। শনি-রবি ছুটির মেজাজে সপরিবারে বা বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে আসার জন্য এই বিসিন্দা পাহাড় এখন অন্যতম সেরা বিকল্প।

তাই দেরি না করে এবার আপনার ভ্রমণ তালিকায় যোগ করে নিন বিসিন্দা পাহাড়কে। প্রকৃতির রূপ আর দেবীর আশীর্বাদ— দুই মিলে আপনার ট্রিপ হয়ে উঠবে স্মরণীয়।