খুন শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক! শপথের আগেই রণক্ষেত্র বাংলা, অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি সামলাতে পথে নামল বিজেপি

বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই রক্তক্ষয়ী হিংসায় উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ। সরকার গঠনের আগেই বড়সড় ধাক্কা খেল বিজেপি শিবির। মধ্যমগ্রামে বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে খুন করল দুষ্কৃতীরা। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ল পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি।
ভাদুতলায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ
শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ সঙ্গীকে খুনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। বৃহস্পতিবার সকালে শালবনি ব্লকের ভাদুতলা এলাকায় জাতীয় সড়কের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। এর ফলে দীর্ঘক্ষণ রাজ্য সড়ক ও জাতীয় সড়কে যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায়। আটকে পড়ে অসংখ্য যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী লরি।
কাঠগড়ায় তৃণমূল, হুঁশিয়ারি বিজেপির
বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই খুনের নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। স্থানীয় বিজেপি নেতা অপূর্ব ঘোষ সরাসরি অভিযোগ তুলে বলেন, “বুধবার রাতে আমাদের নেতার আপ্তসহায়ককে যেভাবে নৃশংসভাবে মারা হয়েছে, তা সহ্য করা হবে না। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। শুধু তাই নয়, জেলায় জেলায় ছড়িয়ে থাকা তৃণমূলের চিহ্নিত দুষ্কৃতীদেরও পুলিশকে ধরতে হবে। অন্যথায় আমরা আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।”
শপথের আগে তপ্ত বাংলা
৪ মে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর ২০৭টি আসন জিতে রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। আগামী ৯ মে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। কিন্তু তার আগেই জেলায় জেলায় ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ সামনে আসছে। কোথাও পার্টি অফিস ভাঙচুর, তো কোথাও রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই আসরে নেমেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং স্বয়ং শুভেন্দু অধিকারী। তাঁরা বারেবারে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানাচ্ছেন।
পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
খবর পেয়ে দ্রুত ভাদুতলার বিক্ষোভস্থলে পৌঁছায় পুলিশ বাহিনী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতারের আশ্বাস দেওয়া হলে বেশ কিছুক্ষণ পর বিক্ষোভ তুলে নেন বিজেপি কর্মীরা। পুলিশ সুপার এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্ত জেলায় কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে যাতে শান্তিভঙ্গ না হয়। বিজেপি নেতৃত্বের তরফেও বেশ কিছু জায়গায় তৃণমূলের বন্ধ হয়ে যাওয়া পার্টি অফিস খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক খুনের ঘটনায় যে নতুন করে রাজনৈতিক পারদ চড়ল, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, শপথের আগে রাজ্যে শান্তি ফেরাতে নবনির্বাচিত সরকার ও প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়।