যুবসাথী এবার অতীত? বেকারদের জন্য মাসে ৩০০০ টাকার ‘যুবশক্তি’ কার্ড আনছে নয়া সরকার!

বাংলায় পরিবর্তনের হাওয়ার সঙ্গেই এবার বড়সড় বদল আসতে চলেছে বেকার ভাতার নিয়মে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মেনে এবার রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য বড় ঘোষণা করল বিজেপি সরকার। এতদিন তৃণমূল সরকারের ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের অধীনে মাসিক ১৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হতো। কিন্তু এবার সেই ভাতার পরিমাণ একলাফে দ্বিগুণ করে ৩০০০ টাকা করার পথে হাঁটছে নতুন সরকার।
‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’ ও ৩০০০ টাকার প্রতিশ্রুতি
বিজেপির পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল যে, রাজ্যের কর্মসংস্থানহীন যুবক-যুবতীদের পাশে দাঁড়াতে তারা ‘যুবশক্তি প্রকল্প’ চালু করবে। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করে জানানো হয়েছে, যতদিন না যোগ্য কর্মপ্রার্থীরা স্থায়ী কাজ পাচ্ছেন, ততদিন প্রতি মাসে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
আগের সরকারের নিয়ম অনুযায়ী ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সীরা এই ভাতার আওতায় আসতেন। তবে অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগ ছিল যে, সঠিক পরিকাঠামোর অভাবে বহু যোগ্য প্রার্থী যুবসাথী প্রকল্পের সুবিধা পাননি। সেই ত্রুটি দূর করে এবার সরাসরি দ্বিগুণ টাকা দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
কবে থেকে ঢুকবে টাকা?
নয়া সরকারের অন্দরমহল সূত্রে খবর, মে মাসের ৯ তারিখ শপথ গ্রহণের পর চলতি মাসে নতুন করে কোনও টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকবে না। তবে জুন মাস থেকেই বর্ধিত ৩০০০ টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। যাঁরা ইতিপূর্বে যুবসাথী প্রকল্পের টাকা পেতেন, তাঁদের জন্যও রয়েছে বিশেষ আপডেট।
নতুন আবেদন না কি পুরনো অ্যাকাউন্ট?
অনেকের মনেই প্রশ্ন ছিল যে, যুবসাথীর পুরনো অ্যাকাউন্টেই কি নতুন প্রকল্পের টাকা ঢুকবে? প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী:
নতুন করে ভেরিফিকেশন: পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখতে সরকার নতুন করে ভেরিফিকেশন বা তথ্য যাচাইয়ের কাজ শুরু করবে।
নতুন আবেদন: খুব শীঘ্রই নতুন করে ফর্ম ফিলাপ এবং আবেদনের পোর্টাল খুলে দেওয়া হবে। যোগ্য প্রার্থীদের নতুন করে আবেদন করতে হবে।
যোগ্যতা যাচাই: আগের তালিকা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি নতুন করে যারা কর্মহীন হয়েছেন, তাঁদেরও এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।
প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, জুন মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৩০০০ টাকা ঢুকতে শুরু করবে। এই ঘোষণার ফলে রাজ্যের কয়েক লক্ষ বেকার যুবক-যুবতীর মুখে হাসি ফুটেছে। তবে আবেদনের নির্দিষ্ট পদ্ধতি এবং সময়সীমা নিয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তির দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে সকলে।