শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গী ও প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্মীকে নৃশংস খুন! মধ্যমগ্রামে মধ্যরাতে ঠিক কী ঘটেছিল?

বাংলায় বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের আবহে ফের রক্তাক্ত রাজনৈতিক ময়দান। এবার দুষ্কৃতীদের নিশানায় খোদ রাজ্যের হেভিওয়েট নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী তথা তাঁর ছায়াসঙ্গী চন্দ্রনাথ রথ। বুধবার গভীর রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা রাজ্যে।

এক নির্ভীক সৈনিকের রাজনৈতিক লড়াই
চন্দ্রনাথ রথ (৪১) কেবল একজন রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক প্রাক্তন সৈনিক। দীর্ঘ ২০ বছর ভারতীয় বিমান বাহিনীতে (IAF) দেশের সেবা করার পর তিনি স্বেচ্ছায় অবসর নেন। রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র চন্দ্রনাথ আধ্যাত্মিক ভাবধারায় বিশ্বাসী হলেও, শুভেন্দু অধিকারীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতির ময়দানে পা রাখেন। ২০১৯ সাল থেকেই তিনি শুভেন্দু অধিকারীর ছায়াসঙ্গী হিসেবে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক স্তরে কাজ করে আসছিলেন।

নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর জয়ের নেপথ্য কারিগর
শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় চন্দ্রনাথ রথ ছিলেন এক অন্যতম বিশ্বস্ত স্তম্ভ। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের মতো হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সামলেছিলেন এই প্রাক্তন সেনা কর্মী। গত সোমবারের নির্বাচনী ফলাফলে বিজেপি ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি জিতে রাজ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর যখন উৎসবের আমেজ, ঠিক তখনই তাঁর এই হত্যাকাণ্ড বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল।

লো-প্রোফাইল থেকে অধিকারীর ‘রাইট হ্যান্ড’
পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের বাসিন্দা চন্দ্রনাথ প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতেই পছন্দ করতেন। অথচ শুভেন্দুর প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকত। এমনকি তাঁর পরিবারও দীর্ঘকাল ধরে অধিকারীর ঘনিষ্ঠ। চন্দ্রনাথের মা হাসি রথ একসময় তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য ছিলেন এবং ২০২০ সালে তিনিও শুভেন্দুর সঙ্গেই বিজেপিতে যোগ দেন। বিজেপির অন্দরে গুঞ্জন ছিল, সরকার গঠনে শুভেন্দু অধিকারী কোনো বড় দায়িত্ব পেলে চন্দ্রনাথকেও হয়তো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে দেখা যেতে পারে।

তদন্তের গতিপ্রকৃতি
পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার গভীর রাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। তবে কারা এবং কেন এই খুন করল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নাকি অন্য কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা, সব দিক খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। ঘটনার ভয়াবহতা বিচার করে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

বিজেপির পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে। এক নির্ভীক প্রাক্তন সেনা এবং শুভেন্দুর অত্যন্ত বিশ্বস্ত সহকর্মীর এই অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া মেদিনীপুর থেকে মধ্যমগ্রাম— সর্বত্র।