মালদহে বীভৎসতা! যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে হাঁসুয়া দিয়ে কোপ, এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা

ফের রক্ত ঝরল রাজ্যে। ভোট পরবর্তী উত্তেজনার আবহেই মালদহের ইংরেজবাজারে এক যুবককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল। বুধবার রাতে ইংরেজবাজার পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের গাদুয়া মোড় এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। মৃত যুবকের নাম কিষাণ হালদার (২৮), যিনি পেশায় এক বিজেপি সমর্থক বলেই পরিচিত। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে এই খুনের নেপথ্যে রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য নেই বলে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।
ফোন করে ডেকে নিয়ে গিয়ে ‘খুন’
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে বেশ কয়েকজন যুবক ফোন করে কিষাণকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। অনেক সময় পার হয়ে গেলেও তিনি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। দীর্ঘক্ষণ নিখোঁজ থাকার পর বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে মহেশপুর বাগানপাড়া এলাকায় কিষাণের রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। দেহের পাশ থেকেই একটি বড় আকারের হাঁসুয়া উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ওই অস্ত্র দিয়েই কিষাণকে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় কিষাণের আরও দুই বন্ধু আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ
ঘটনার নেপথ্যে প্রতিবেশী গোলাম হালদার, তাঁর ছেলে সুমন হালদারসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলেছে মৃতের পরিবার। কিষাণের স্বজনদের দাবি, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। নির্দিষ্ট ছক কষেই তাঁকে রাতে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে আসা হয়েছিল এবং তারপর হামলা চালানো হয়। খবর পাওয়ার পরেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বিজেপির অবস্থান: ‘রাজনৈতিক খুন নয়’
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠলেও ইংরেজবাজারের এই ঘটনায় ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে গেরুয়া শিবির। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এটি কোনো রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নয়। পাড়ার কিছু যুবকের মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিনের পুরনো বিবাদ ছিল। সেই গোলমালের জেরেই প্রতিবেশী গোলাম ও সুমনের সঙ্গে কিষাণের ঝামেলা হয়, যার মর্মান্তিক পরিণতি এই মৃত্যু। অভিযুক্তদেরও কোনো বিশেষ রাজনৈতিক পরিচয় নেই বলে স্পষ্ট করে দিয়েছে বিজেপি।
তদন্তে পুলিশ
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই দু’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ। বচসার আসল কারণ কী এবং কারা সরাসরি এই খুনের সঙ্গে যুক্ত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকায় নতুন করে যাতে কোনো অশান্তি না ছড়ায়, সেই লক্ষ্যে পুলিশি টহল জারি রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।