‘রেকি করে ঠান্ডা মাথায় খুন’, চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ডে ডিজি-র সঙ্গে কথা শুভেন্দুর, উত্তপ্ত উত্তর ২৪ পরগনা

লোকসভা ভোটের উত্তেজনা স্তিমিত হওয়ার আগেই ফের রক্তাক্ত উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বিজেপি নেতা চন্দ্রনাথ রথকে খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর বুধবার রাতেই মধ্যমগ্রামের হাসপাতালে পৌঁছান শুভেন্দু অধিকারী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। সেখান থেকেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সুর চড়িয়েছেন তিনি।
পরিকল্পিতভাবে খুন! বিস্ফোরক শুভেন্দু:
হাসপাতালে মৃত নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে বেরিয়ে আসার সময় শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। তাঁর দাবি, “দিনের পর দিন চন্দ্রনাথের গতিবিধির ওপর নজর রাখা হয়েছিল। খুনিরা আগে থেকেই রেকি করে এই খুনের ছক কষেছিল। এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড।”
বিরোধী দলনেতা জানান, এই ঘটনার পরপরই তিনি রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। পুলিশি তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে শুভেন্দু বলেন, “ডিজি জানিয়েছেন সিসিটিভি ফুটেজ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলেছে। আমরা চাইছি নিরপেক্ষ তদন্ত হোক, তাই তদন্তের স্বার্থে এর বেশি কিছু জানতে চাইনি। আমরা পুলিশের ওপর এখনই ভরসা রাখছি এবং দ্রুত দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছি।”
দলীয় কর্মীদের প্রতি কড়া বার্তা:
ঘটনার পর এলাকা উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও বিজেপি কর্মীদের শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “চন্দ্রনাথের পরিবার এবং আহত কর্মীদের চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব দল নেবে। তবে আমি কর্মীদের বলব, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। আপনারা সংযম বজায় রাখুন।”
হিংসার আবহে উত্তপ্ত বাংলা:
শুধুমাত্র মধ্যমগ্রাম নয়, একই দিনে রাজ্যের একাধিক প্রান্তে অশান্তির খবর সামনে আসায় সরব হয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, খড়দহে বোমাবাজি, বরাহনগরে ছুরি নিয়ে হামলা এবং বসিরহাটে বিজেপি কর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালনার ঘটনা রাজ্যের ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলাকেই প্রমাণ করছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, চন্দ্রনাথ রথের এই হত্যাকাণ্ড আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে বড়সড় বিতর্কের জন্ম দিতে চলেছে।
বর্তমানে মধ্যমগ্রাম এলাকায় ব্যাপক পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করতে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে খড়দহ ও মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ।