বিমানে চড়া কি এবার সস্তা হবে? ধুঁকতে থাকা এয়ারলাইনসগুলোকে বাঁচাতে ৫০০০ কোটির মেগা প্যাকেজ কেন্দ্রের!

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা বাজতেই বিশ্বজুড়ে অস্থির জ্বালানির বাজার। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের আকাশপথেও। এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (এটিএফ) বা বিমান জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় কার্যত খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে দেশের একাধিক বড় বিমানসংস্থা। এই কঠিন পরিস্থিতিতে ধুঁকতে থাকা এয়ারলাইনসগুলোকে অক্সিজেন দিতে ৫০০০ কোটি টাকার বিশাল আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় সরকার।
কেন এই জরুরি প্যাকেজ?
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক উড়ানপথে একাধিক আকাশসীমা বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে ঘুরপথে বিমান চালাতে গিয়ে জ্বালানি খরচ বেড়েছে বহুগুণ। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো এবং স্পাইসজেটের মতো সংস্থাগুলি কেন্দ্রকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিল যে—এটিএফ-এর দাম প্রতি কিলোলিটারে ২ লক্ষ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়েছে। লাভ তো দূরস্ত, বিমান চালানোই দায় হয়ে পড়েছে।
মন্ত্রিসভার বড় সিদ্ধান্ত:
বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ক্যাবিনেট বৈঠকে এই সমস্যার সমাধানে সিলমোহর দেওয়া হয়। ঠিক হয়েছে, ‘এমারজেন্সি ক্রেডিট লাইন গ্যারান্টি স্কিম’ (ইসিএলজিএস) ৫.০-এর মাধ্যমে এই আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। সরকারের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো সংস্থাগুলির ওপর চেপে বসা জ্বালানি খরচের বোঝা কিছুটা হালকা করা।
সহায়তার অঙ্ক ও শর্তাবলী:
কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ম অনুযায়ী:
একটি বিমানসংস্থা সর্বোচ্চ ১০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে।
যদি সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি নিজের থেকেও বিনিয়োগ করে, তবে অতিরিক্ত আরও ৫০০ কোটি টাকার ঋণ মিলবে।
ঋণের মেয়াদ রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ ৭ বছর।
প্রথম ২ বছর মূল টাকা শোধ না করলেও চলবে (Moratorium period), যা সংস্থাগুলোকে গুছিয়ে বসার সুযোগ দেবে।
কী বলছেন বিমান পরিবহন মন্ত্রী?
বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রামমোহন নাইডু এই সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, সঠিক সময়ে এই সাহায্য না দিলে অনেক বিমানসংস্থা ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হতো। এই প্রকল্পের ফলে শুধু যে সংস্থাগুলি বাঁচবে তা নয়, যাত্রী পরিষেবাও স্থিতিশীল থাকবে এবং টিকিটের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ার হাত থেকে সাধারণ মানুষ রক্ষা পাবেন।
বিশেষজ্ঞদের মত:
আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম যে হারে বাড়ছে, তাতে বিমান ভাড়া নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। কেন্দ্রের এই ৫০০০ কোটি টাকার ‘লাইফলাইন’ আপাতত বিমান পরিবহন শিল্পকে খাদের কিনারা থেকে ফিরিয়ে আনবে। তবে যুদ্ধের পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ভবিষ্যতে আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে এই ক্ষেত্র।