আইজি-র নেতৃত্বে স্পেশাল টিম, চালকের শরীর থেকে বেরোল ৩টি গুলি! শুভেন্দুর ‘ডান হাত’ খুনে এবার কি দিল্লির সার্জিক্যাল স্ট্রাইক?

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী চন্দ্রনাথ রথের হত্যাকাণ্ড নিয়ে এবার সরাসরি ময়দানে নামল দিল্লি। বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এই হাই-প্রোফাইল খুনের ঘটনায় খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ফোন করলেন শুভেন্দু অধিকারীকে। খোঁজ নিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতা নীতিন নবীনও। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কিনারা করতে ইতিমধ্য়েই রাজ্য পুলিশের আইজি-সিআইডির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে।

তদন্তে সিআইডি-এসটিএফ-আইবি: চার স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী
চন্দ্রনাথ খুনের গুরুত্ব বিচার করে তদন্তভার শুধু জেলা পুলিশের হাতে রাখা হয়নি। আইজি সিআইডির নেতৃত্বে গঠিত এই বিশেষ দলে থাকছেন রাজ্য পুলিশের এসটিএফ (STF), সিআইডি (CID), জেলা পুলিশের দক্ষ অফিসার এবং গোয়েন্দা বিভাগ তথা আইবি-র (IB) শীর্ষ কর্তারা। বৃহস্পতিবার সকালেই সিআইডির ফরেনসিক ও গোয়েন্দা দল মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ার ঘটনাস্থলে পৌঁছে নমুনা সংগ্রহ শুরু করেছে। এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধ্য়েই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যা বিশ্লেষণ করে খুনিদের সম্ভাব্য গতিপথ চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

সঙ্কটজনক চালক, শরীর থেকে বেরোল ৩টি বুলেট
এদিকে ঘাতকদের গুলিতে জখম চন্দ্রনাথের গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেরার অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ইএম বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বুদ্ধদেবের শরীরে গত রাতে দীর্ঘ অস্ত্রোপচার করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাঁর শরীর থেকে তিনটি বুলেট উদ্ধার করেছেন চিকিৎসকরা। বর্তমানে তিনি আইসিইউ-তে (ICU) ভেন্টিলেশনে রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক ঘণ্টা তাঁর জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাড়ির দোরগোড়ায় ‘টার্গেট কিলিং’
তদন্তে জানা গিয়েছে, চন্দ্রনাথের আদি বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে হলেও কাজের সূত্রে তিনি মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। বুধবার রাতে নিজের ফ্ল্যাটের ঠিক ঢিল ছোড়া দূরত্বেই তাঁকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খতম করা হয়। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, এটি একটি সুপরিকল্পিত ‘ঠান্ডা মাথার খুন’। দোষীদের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ ও বিশেষ তদন্তকারী দল।