ভবানীপুরে মমতার হারের মাশুল দিলেন চন্দ্রনাথ? “তৃণমূল খুনিদের দল,” শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গী খুনে বিস্ফোরক কেয়া ঘোষ!

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি সরকারের প্রত্যাবর্তনের আবহে সবথেকে বড় রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকল মধ্যমগ্রাম। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত আপ্ত-সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে খুনের ঘটনায় এবার বিস্ফোরক দাবি করলেন বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শুভেন্দুর ‘ঐতিহাসিক’ জয়ের নেপথ্যে কাজ করার মাসুল দিতে হল চন্দ্রনাথকে।

“ভবানীপুরে হারের আক্রোশেই এই সুপারি কিলিং”
শুভেন্দু অধিকারীর ছায়াসঙ্গী চন্দ্রনাথের মৃত্যুকে ‘ঠান্ডা মাথার সুপরিকল্পিত খুন’ বলে দাবি করেছেন কেয়া ঘোষ। তিনি বলেন, “তৃণমূল যে লুটেরা এবং খুনিদের দল, তা আমি বারবার বলে এসেছি। ভবানীপুর কেন্দ্রে যেভাবে শুভেন্দু অধিকারী জয়ী হয়েছেন, সেই রাগ এবং হতাশা থেকেই তৃণমূল এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। যারা এই খুনের সুপারি দিয়েছে, তারা নতুন সরকার আসার পর কেউ রেহাই পাবে না।”

অপারেশন চন্দ্রনাথ: বিরিয়ানি দোকানের সামনেই গুলিবৃষ্টি
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে পুলিশ জানায়, বুধবার সারাদিন শুভেন্দুর সঙ্গেই ছিলেন চন্দ্রনাথ। রাতে বাড়ি ফেরার পথে মধ্যমগ্রামের দোহরিয়ায় একটি বিরিয়ানির দোকানের সামনে তাঁর স্করপিও গাড়িটি থামে। চন্দ্রনাথ গাড়ির চালকের পাশের আসনে বসেছিলেন। ঠিক সেই সময় বাইকে করে আসা দুষ্কৃতীরা পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে অন্তত তিনটি গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।

আহত চালক, রেইকির অভিযোগ শুভেন্দুর
এই হামলায় শুধু চন্দ্রনাথ নন, গুরুতর আহত হয়েছেন গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেরা। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে ইএম বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। খোদ শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন যে, গত কয়েকদিন ধরে খুনিরা চন্দ্রনাথের ওপর রেইকি বা নজরদারি চালিয়েছিল। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মৃত ও আহত কর্মীর পরিবারের যাবতীয় দায়িত্ব বিজেপি নেবে।

ইতিমধ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ‘সুপারি কিলার’ যোগের গন্ধ পাচ্ছে পুলিশ। অর্জুন সিং থেকে শুরু করে কেয়া ঘোষ—বিজেপি নেতৃত্বের নিশানায় এখন রাজ্যের বিদায়ী শাসক দল। বাংলার নতুন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঠিক আগেই এই হাই-প্রোফাইল খুনের ঘটনায় পরিস্থিতি অত্যন্ত অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে।