“নিজেরাই হারলে তবেই কি ভোট চুরি?” রাহুল গান্ধীকে তুলোধোনা ধর্মেন্দ্র প্রধানের, শোরগোল রাজনৈতিক মহলে!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই সরগরম জাতীয় রাজনীতি। পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে বিজেপির অভাবনীয় জয়ের পর ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ তুলেছিলেন রাহুল গান্ধী। সেই আক্রমণের পাল্টা জবাব দিতে এবার ময়দানে নামলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। কংগ্রেস নেতার এই অভিযোগকে ‘গণতন্ত্রের প্রতি স্ববিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি।

রাহুলের ‘সুবিধাবাদী’ আক্রোশকে তোপ
সোমবার রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছিলেন যে, নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে কার্যত ভোট ‘চুরি’ করেছে। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘১০০ আসন চুরি’র দাবিকেও সমর্থন জানান তিনি। মঙ্গলবার এর পাল্টায় ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, “নির্বাচনী আক্রোশ কোনো যুক্তি হতে পারে না। বারবার হারের পর আত্মবিশ্লেষণ না করে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা কংগ্রেসের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।”

কেরল বনাম বাংলা: কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন
ধর্মেন্দ্র প্রধানের দাবি, কংগ্রেসের বিচারবুদ্ধি এখন নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী চলে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যখন কংগ্রেস কেরালায় জেতে, তখন সেই একই নির্বাচন কমিশন ‘স্বাধীন’ ও ‘বিশ্বাসযোগ্য’ হয়ে ওঠে। কিন্তু অন্য রাজ্যে হারলেই কেন সেই প্রতিষ্ঠানকে ‘আপোষকামী’ বলে দেগে দেওয়া হয়?” মন্ত্রীর মতে, জয় বা হারের ওপর ভিত্তি করে কোনো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সততা বিচার করা যায় না।

জনগণের রায় বনাম ‘মনগড়া গল্প’
কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, জনগণের রায়ই চূড়ান্ত। ভোটারদের জটিল সিদ্ধান্তকে ‘রাজনৈতিক অভিযোগে’ পরিণত করা ঠিক নয়। তাঁর কথায়, “ফলাফল ঘোষণার পর মনগড়া গল্প দিয়ে জনগণের রায়কে অস্বীকার করা যায় না। গণতন্ত্র টিকে থাকে ফলাফল মেনে নেওয়া এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকার মাধ্যমে। কিন্তু কংগ্রেস পরাজয় মেনে নেওয়ার বদলে বাস্তব থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।”

ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বিশ্বাসযোগ্যতা
রাহুল গান্ধীকে লক্ষ্য করে প্রধান আরও বলেন, বারবার ফলাফলকে কলঙ্কিত করার এই চেষ্টা ভারতের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে না, বরং কংগ্রেসের নিজস্ব বিশ্বাসযোগ্যতাকেই ভোটারদের কাছে কমিয়ে দিচ্ছে। তাঁর তীক্ষ্ণ মন্তব্য, “এই মুহূর্তে যদি কোনো কিছু ধারাবাহিকভাবে ‘কারচুপি’ করা হয়ে থাকে, তবে তা হলো নির্বাচনী বাস্তবতার সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্ক।”

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে বিজেপির ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টরির পর বিরোধী শিবিরে যখন হারের ময়নাতদন্ত চলছে, তখন ধর্মেন্দ্র প্রধানের এই মন্তব্য রাজনৈতিক তপ্ত আবহাওয়ায় নতুন ঘি ঢেলে দিল।