মমতাকে হারিয়ে সোজা দিল্লি? শান্তিকুঞ্জ থেকে বেরোতেই শুভেন্দুকে নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা!

বাংলায় পরিবর্তনের হাওয়া এখন গেরুয়া ঝড়ে রূপান্তরিত। বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর এবার সরকার গড়ার তোড়জোড় শুরু করে দিল ভারতীয় জনতা পার্টি। এই জয় নিশ্চিত হতেই মঙ্গলবার সকাল ১০:৩০ নাগাদ কাঁথির ‘শান্তিকুঞ্জ’ থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা এই নির্বাচনের অন্যতম ‘জায়ান্ট কিলার’ শুভেন্দু অধিকারী।

শান্তিকুঞ্জে কড়া নিরাপত্তা, গন্তব্য রাজ্য দপ্তরে
বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় শুভেন্দুর মেজাজ ছিল যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং বড়দের প্রণাম সেরে তিনি গাড়িতে ওঠেন। তবে দিল্লি যাত্রা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে মুখে কুলুপ এঁটেছেন তিনি। আপাতত তাঁর গন্তব্য মুরলীধর সেন লেনের রাজ্য পার্টি অফিস। সেখানে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে জয়ের আনন্দ ভাগ করে নেবেন তিনি। এদিকে শুভেন্দুর গতিবিধির কথা মাথায় রেখে শান্তিকুঞ্জ এলাকার নিরাপত্তা বলয় আরও কঠোর করেছে রাজ্য পুলিশ।

ফেসবুকে আবেগঘন বার্তা: ‘নতজানু’ কৃতজ্ঞতা
মঙ্গলবার সকালে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন শুভেন্দু। সেখানে তিনি রাজ্যবাসীকে বিনম্র প্রণাম জানিয়ে লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টিকে বিপুল সমর্থন দেওয়ার জন্য ও প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদিজির নেতৃত্বে ভরসা রাখার জন্য আপনাদের প্রত্যেককে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।” তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই জয় আসলে দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রবাদী ও বিজেপি কর্মীদের জয়। একটি ‘নিরাপদ ও উন্নত’ পশ্চিমবঙ্গ গড়াই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।

দিল্লিতে মোদির হাইভোল্টেজ বৈঠক, নজরে নবান্নের পরবর্তী অধিপতি
এদিকে বাংলার ফল স্পষ্ট হতেই দিল্লিতে তৎপরতা তুঙ্গে। সোমবার রাতেই জয়ের বার্তা পৌঁছে গিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে। আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে বিজেপির পার্লামেন্টারি বোর্ডের একটি বিশেষ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী:

এই বৈঠকেই নির্ধারিত হতে পারে বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম।

কেমন হবে আগামীর মন্ত্রিসভা এবং কারা জায়গা পাবেন মোদি-শাহের গুড বুকে, তা নিয়েও হবে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

রাজ্য বিজেপির সল্টলেক দপ্তরেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছে, যেখানে শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও উপস্থিত থাকবেন শমীক ভট্টাচার্য, রাহুল সিনহার মতো শীর্ষ নেতারা।

নির্বাচন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন শুভেন্দু। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন বিকেলের বৈঠকের দিকে— নবান্নের মসনদে শেষ পর্যন্ত কে বসছেন, তা জানতে উদগ্রীব গোটা বাংলা।