“মমতা ‘শেষ’, এবার জেলে যাবেন অভিষেক!”-ভবানীপুর জয়ের পর বেনজির আক্রমণ শুভেন্দুর!

ছাব্বিশের নির্বাচনে বাংলায় আছড়ে পড়েছে প্রলয়ঙ্করী গেরুয়া ঝড়। আর সেই ঝড়ে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে তৃণমূলের ১৫ বছরের অভেদ্য দুর্গ। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর নিজের পাড়া ভবানীপুরে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। জয়ের শংসাপত্র হাতে নিয়েই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে মমতা ও অভিষেককে তুলোধোনা করলেন বিজেপি নেতা।
সোমবার ভবানীপুরে জয় নিশ্চিত হওয়ার পরেই শুভেন্দুর গলায় শোনা গেল ‘বদলা’ নয়, বরং ‘ব্যবস্থা’ নেওয়ার সুর। দুর্নীতি ও গুন্ডারাজ রুখতে নতুন সরকারের কড়া অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে দিলেন তিনি।
“মমতা শেষ, এবার জেলের পালা!”
জয়ের পর তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে আক্রমণ করে শুভেন্দু বলেন, “রাহুল গান্ধী শেষ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও শেষ। আগামী নির্বাচনে অখিলেশ যাদবও শেষ হয়ে যাবেন। যারা গুন্ডা আর চোর, তাদের বিরুদ্ধে এবার কড়া ব্যবস্থা নেবে বিজেপি সরকার।” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নিশানা করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “অভিষেক যেখানেই থাকুক, ও এত চুরি করেছে যে ওকে জেলে ঢোকানোর কাজ করবে নতুন বিজেপি সরকার।”
হিন্দু ভোট ও খিদিরপুর সমীকরণ
নিজের জয়ের কৃতিত্ব সাধারণ ভোটারদের দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “পুরো হিন্দু সমাজ একজোট হয়ে বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল খিদিরপুর থেকে ২০ হাজার লিড পেয়েছেন, বাকি সব জায়গায় আমি এগিয়ে ছিলাম।” তাঁর সাফ কথা, বাংলাকে বাঁচাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো অত্যন্ত জরুরি ছিল।
শহিদদের জয় উৎসর্গ
এই জয়ের দিনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন শুভেন্দু। তিনি স্মরণ করেন সেইসব বিজেপি কর্মীদের, যারা গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ হারিয়েছেন। শুভেন্দু বলেন, “এই জয় আমি উৎসর্গ করছি হরগোবিন্দ দাস, চন্দন দাসের মতো ৩০০ হিন্দু শহিদদের, যাঁদের আত্মবলিদানের ওপর দাঁড়িয়ে আজ বাংলায় পরিবর্তন এসেছে। এই জয় না হলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন অধরা থেকে যেত।”
এক নজরে দুই কেন্দ্রের ফলাফল:
ভবানীপুর বিধানসভা:
-
শুভেন্দু অধিকারী (BJP): ৭৩,৯১৭ ভোট (বিজয়ী)
-
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (TMC): ৫৮,৮১২ ভোট
-
ব্যবধাস: ১৫,১০৫ ভোট
-
শ্রীজীব বিশ্বাস (বাম): ৩,৫৫৬ ভোট
নন্দীগ্রাম বিধানসভা: ভবানীপুরের পাশাপাশি নিজের পুরনো কেন্দ্র নন্দীগ্রামেও দাপট বজায় রেখেছেন শুভেন্দু। সেখানে তৃণমূলের পবিত্র করকে ৯,৬৬৫ ভোটে হারিয়ে জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছেন তিনি।
নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই হেভিওয়েট কেন্দ্রে মমতা ও তাঁর দলকে ধরাশায়ী করে শুভেন্দু অধিকারী এখন বাংলার রাজনীতির অবিসংবাদিত ‘মহারাজ’। এখন প্রশ্ন হলো, ৯ মে-র শপথ অনুষ্ঠানে কি তাঁর মাথাতেই উঠবে মুখ্যমন্ত্রীর মুকুট? উত্তর সময়ের অপেক্ষায়।