“৩০০০ টাকা ভাতা থেকে UCC”—ক্ষমতায় এসে কী কী করতে চলেছে বিজেপি?

বাংলায় ১৫ বছরের ঘাসফুল জমানার অবসান ঘটিয়ে এখন গেরুয়া বসন্ত। আনুষ্ঠানিক সরকার গঠন এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু নবান্নের কুর্সিতে বসার পর ঠিক কী কী কাজ করবে বিজেপি সরকার? সোমবার ফলপ্রকাশের পর দিল্লির সদর দফতর থেকে বিজয় ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলার আগামীর রূপরেখা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। ‘সোনার বাংলা’ গড়ার লক্ষ্যে একগুচ্ছ জনমোহিনী ও কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে নতুন সরকার।

এক নজরে দেখে নিন নতুন সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় কী কী থাকছে-

প্রথম ক্যাবিনেটেই বড় উপহার

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন, নব্য নির্বাচিত সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পে সবুজ সংকেত দেওয়া হবে। এর ফলে বাংলার সাধারণ মানুষ বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন।

লক্ষ্মীলাভ ও বেকার ভাতা

বাংলার মধ্যবিত্ত ও গরিব পরিবারের মহিলাদের জন্য মাসে ৩০০০ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, যে সমস্ত যুবক-যুবতী এখনও কর্মসংস্থান পাননি, তাঁদেরও মাসিক ৩০০০ টাকা বেকার ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে নতুন সরকারের।

সরকারি কর্মীদের মুখে হাসি: ডিএ ও পে কমিশন

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া ডিএ (DA) মেটানোর আশ্বাস দিয়েছেন অমিত শাহ। সরকার গঠনের মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম পে কমিশন লাগু এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যে অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

মহিলা নিরাপত্তা ও ৩৩% সংরক্ষণ

নারীদের সুরক্ষায় রাজ্যে তৈরি হবে বিশেষ মহিলা ব্যাটালিয়ন ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’। পাশাপাশি, নারী ক্ষমতায়নে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে রাজ্যের সমস্ত সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি।

অনুপ্রবেশ ও গরু পাচার রুখতে কড়া দাওয়াই

সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুপ্রবেশ রুখতে শাহী ফর্মুলা— ‘ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট’ নীতি নিয়ে চলবে প্রশাসন। একইসঙ্গে বাংলা থেকে গরু পাচার সম্পূর্ণ বন্ধ করতে সীমান্তে কড়া নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স

বিজেপির ইশতেহারে স্পষ্ট বলা হয়েছে, তৃণমূল জমানার সমস্ত দুর্নীতির তদন্ত হবে। দোষীদের কঠোর শাস্তির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি নিয়ে তিনটি পৃথক ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করবে নতুন সরকার।

কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্পে বিনিয়োগ

ধান, আলু ও আম চাষীদের জন্য ফসলের ন্যায্যমূল্য সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’র আওতায় আনা হবে। এছাড়া উত্তরবঙ্গের চা শিল্প ও পাটের আধুনিকীকরণে বিশেষ জোর দেবে সরকার।

UCC ও সাংস্কৃতিক পরিচয়

সরকার গঠনের ৬ মাসের মধ্যে বাংলায় UCC (অভিন্ন দেওয়ানি বিধি) চালুর ইঙ্গিত রয়েছে। পাশাপাশি রাজবংশী ও কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা এবং একটি বিশেষ ‘বন্দে মাতরম সংগ্রহশালা’ তৈরির মাধ্যমে বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার শপথ নিয়েছে গেরুয়া শিবির।

বাংলার এই নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে উন্নয়নের চাকা কতটা দ্রুত ঘোরে, এখন সেটাই দেখার।