“৫০-৬০ কিমি বেগে আছড়ে পড়ছে ঝড়!”-বাংলার এই জেলাগুলিতে জারি হাই-অ্যালার্ট!

মে মাসের তপ্ত দুপুরের স্বস্তি নাকি ঝড়ের তান্ডব? মঙ্গলবার সকাল থেকেই মেঘলা আকাশ আর দফায় দফায় বৃষ্টিতে ভিজছে শহর কলকাতা। তবে আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, এটি স্রেফ সাধারণ বৃষ্টি নয়, আগামী কয়েক ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সঙ্গে ধেয়ে আসতে পারে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ কালবৈশাখী।
গত কয়েকদিনের গুমোট গরমের পর আজকের এই বৃষ্টি কিছুটা স্বস্তি দিলেও, বৃষ্টির দাপট বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাড়তে পারে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে বৃষ্টির সময় মানুষকে নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসন।
কলকাতার আকাশেও মেঘের ঘনঘটা
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টা কলকাতার আকাশ মূলত মেঘলাই থাকবে। মঙ্গলবার শহরে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকতে পারে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নামতে পারে ২৪ ডিগ্রিতে। গত ২৪ ঘণ্টায় শহরে ২.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে, তবে বিকালের দিকে ঝড়ের তীব্রতা বাড়লে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে হাই-অ্যালার্ট
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই আজ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে ঝাড়গ্রাম, দুই মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম, নদীয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনার দিকে। এই জেলাগুলিতে বৃষ্টির পাশাপাশি ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বাকি জেলাগুলোতেও ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা
শুধু দক্ষিণবঙ্গ নয়, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও বৃষ্টির দাপট বাড়ার ইঙ্গিত মিলেছে। আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং জলপাইগুড়িতে এক বা দুই জায়গায় ভারী বৃষ্টির (৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার) সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড়ের জেলাগুলোতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইতে পারে বলে জানাচ্ছে আইএমডি (IMD)।
সব মিলিয়ে, সাতসকালের বৃষ্টিতে কলকাতার তাপমাত্রার পারদ কিছুটা নামলেও, জেলাগুলোতে কালবৈশাখীর দাপট নিয়ে বড়সড় উদ্বেগের কথা শোনাচ্ছে হাওয়া অফিস। বিশেষ করে খোলা আকাশের নিচে বা কাঁচা বাড়িতে যারা থাকেন, তাদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।