ধুতি-পাঞ্জাবিতে একেবারে ‘বাঙালি বাবু’ মোদী! নবান্ন দখলের পর দিল্লির মঞ্চে এ কোন রূপ প্রধানমন্ত্রীর?

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ঐতিহাসিক সাফল্যের পর এক অনন্য মুহূর্তের সাক্ষী থাকল দেশের রাজধানী। সোমবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রবেশ করলেন, উপস্থিত সকলেই কার্যত চমকে যান। পরনে সাদা পাঞ্জাবি, ঘিয়ে রঙের তসর সিল্কের ধুতি আর গলায় জড়ানো উত্তরীয়— আগাগোড়া বাঙালি সাজে সেজেছিলেন তিনি। হাঁটার সময় ধুতির কোঁচা সামলাতে সামান্য বেগ পেতে হলেও, তাঁর চোখে-মুখে ছিল এক গগনচুম্বী আত্মবিশ্বাসের হাসি।
গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর: ভবিষ্যদ্বাণী যখন বাস্তব
বিজয় মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন বিহার নির্বাচনের সময় দেওয়া তাঁর সেই পুরনো প্রতিশ্রুতির কথা। তিনি বলেন, “আমি বলেছিলাম গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত পদ্ম ফুটবে। আজ বিহার ও ওড়িশার পর পশ্চিমবঙ্গেও সেই ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবে পরিণত হয়েছে।” জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, আজ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ঐতিহ্যের জয় হয়েছে।
শহিদ কর্মীদের প্রতি উৎসর্গ ও আবেগী বার্তা
এদিন দর্শকাসনে তখন গেরুয়া আবিরে রঙিন হয়ে বসেছিলেন শমীক ভট্টাচার্য-সহ বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। তাঁদের সামনেই প্রধানমন্ত্রী এই বিপুল জয়কে উৎসর্গ করেন বাংলার সেই সমস্ত কার্যকর্তাদের, যাঁরা বছরের পর বছর প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করেছেন। বিশেষ করে বাংলার মহিলাদের অদম্য সাহসের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “এই সাফল্য সেই সব শহিদ কর্মীদের জন্য, যাঁরা সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন।”
প্রথম ক্যাবিনেটেই বড় ধামাকা: কী কী প্রতিশ্রুতি দিলেন মোদী?
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান:
আয়ুষ্মান ভারত: বাংলার ক্ষমতায় বসে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই রাজ্যে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালুর ছাড়পত্র দেওয়া হবে।
নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান: অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের পাশাপাশি মহিলাদের নিরাপত্তা ও যুবকদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে নতুন সরকার।
ভয়মুক্ত সমাজ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে স্মরণ করে তিনি অঙ্গীকার করেন, ভয়মুক্ত এক সমাজ গড়ে তোলা হবে।
বদলা নয়, বদল চাই
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে উঠে প্রধানমন্ত্রী এদিন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি বলেন, “আমরা বদলা নয়, বদল চাই।” বিভেদ ভুলে বাংলার সার্বিক উন্নয়নে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। মোদীর এই ‘বাঙালি’ অবতার এবং উন্নয়নের রোডম্যাপ স্পষ্ট করে দিল যে, দিল্লির দরবারে এখন পাখির চোখ কেবলই বাংলার পুনর্গঠন।