“বিজেপির ইশারায় নাচছে কমিশন!” ভোট দিতে বেরনোর আগে কেন বিস্ফোরক মমতা? ফাঁস করলেন মাঝরাতের গোপন তথ্য

ভবানীপুরের ভোটযুদ্ধ ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। বুধবার সকালেই রাজপথে নেমে পড়লেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর নেমেই নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের বিরুদ্ধে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন তিনি। মমতার সাফ দাবি, বাইরে থেকে আসা পর্যবেক্ষকরা নিরপেক্ষতা ভুলে পরিষ্কারভাবে “বিজেপির ইশারায় নাচছেন”।
“অভিষেক আর আমি সারারাত জেগে ছিলাম”
এদিন ভবানীপুরের বুথ পরিদর্শনে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, মঙ্গলবার রাত থেকেই পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছিলেন তিনি ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অত্যন্ত ক্ষুব্ধ মেজাজে তিনি বলেন:
“ওরা আমাদের ছেলেদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে। ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকে বাড়ি থেকে বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না। চক্রবেড়িয়া এলাকায় গিয়ে দেখুন, তৃণমূলের সব পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। অভিষেক আর আমি পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে সারারাত ঘুমাইনি।”
আদালত অবমাননার হুঁশিয়ারি নেত্রীর
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে মমতা আরও বলেন যে, তাঁরা ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনী নয়, বরং বহিরাগত কিছু লোক নিয়ে এসে ভোটারদের মধ্যে ভয় আর আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। তবে আত্মবিশ্বাসী নেত্রীর মন্তব্য— “ওরা বাইরে থেকে এসেছে, আবার চলেও যাবে। মানুষই ঠিক করবেন শেষ হাসি কে হাসবে।”
ফিরহাদের বাড়িতে হানা নিয়ে সরব
ভোটের সকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোজাসুজি চলে যান চেতলায় ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে। গত সোমবার গভীর রাতে ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর আনাগোনা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক এদিন ফের উসকে দেন তিনি। ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের ২৩৯ এবং ২৪০ নম্বর বুথ পরিদর্শন করে ফিরহাদের সাথে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।
দিলীপ ঘোষের পাল্টা কটাক্ষ
অন্যদিকে, বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এই ঘটনা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। তাঁর দাবি, হার নিশ্চিত জেনেই তৃণমূল নেত্রী এখন ‘পুষ্পা’ বা ‘সিংহম’ সাজতে চাইছেন।