রাজ্যজুড়ে ইভিএম বিভ্রাট! ভোট শুরু হতেই বিপত্তি, ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ক্ষুব্ধ জনতা

দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শুরু হতেই মেজাজ হারালেন ভোটাররা। বুধবার সকাল থেকেই রাজ্যের সাতটি জেলার একাধিক বুথে ইভিএম (EVM) বিকল হওয়ার খবর সামনে আসছে। কোথাও মকপোলের সময় থেকেই সমস্যা, আবার কোথাও ভোট শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে যন্ত্র। ফলে তীব্র গরমের মধ্যে লাইনে দাঁড়িয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

জেলায় জেলায় ইভিএম বিপর্যয়: একনজরে বর্তমান পরিস্থিতি
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা যান্ত্রিক গোলযোগের খতিয়ান দেখে নিন:

পূর্ব বর্ধমান: বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভার ১৩৯ নম্বর বুথে (মিউনিসিপ্যাল বয়েজ স্কুল) মকপোলের পরেই মেশিন খারাপ হয়ে যায়। খণ্ডঘোষ হাইস্কুলের ১৮১ নম্বর বুথে ৬৬০ জন ভোটার দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেও ভোটগ্রহণ শুরুই করা যায়নি।

নদিয়া: নবদ্বীপের ৬৯ নম্বর বুথে মেশিন বিকল থাকায় প্রায় এক ঘণ্টা ভোট বন্ধ থাকে। রানাঘাট উত্তর-পূর্বের ৮২ ও ৮৩ নম্বর বুথেও একই ছবি।

উত্তর ২৪ পরগনা: হাবরার ২০৯ নম্বর মডেল বুথেই ঘটল বিপত্তি। একবার সারানোর পর ফের বিকল হয় মেশিন। বসিরহাট দক্ষিণের ১৭৩ নম্বর বুথেও (ভ্যাবলা ট্যাটরা স্যার রাজেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়) গেটের বাইরে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ছে।

হাওড়া: জগৎবল্লভপুরের শিয়ালডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৭৯-২৮০ নম্বর বুথে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ভোট বন্ধ থাকায় ভোটাররা ক্ষোভ উগরে দেন।

বিক্ষোভ ও জনরোষ
ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও ভোট দিতে না পেরে অনেক জায়গায় ভোটাররা প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন। বিশেষ করে খণ্ডঘোষের মতো জায়গায় যেখানে কয়েকশো ভোটার লাইনে আটকে ছিলেন, সেখানে পরিস্থিতি বেশ জটিল হয়ে ওঠে। ভোটারদের দাবি, “প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে কেন সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে?”

কমিশনের পদক্ষেপ
ইভিএম বিভ্রাটের খবর পাওয়া মাত্রই প্রশাসনের পক্ষ থেকে টেকনিশিয়ান ও রিজার্ভ মেশিন পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যদিও অনেক জায়গায় মেশিন বদলাতে অনেকটা সময় লেগে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারিগরি ত্রুটি দ্রুত মিটিয়ে ভোট প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।